২০২৬ বিধানসভা ভোটে হাই প্রাইঅরিটি বাংলা, অমিত শাহের নেতৃত্বে বিশেষ কৌশল

Published By: Khabar India Online | Published On:

ছাব্বিশের লড়াইয়ে বাংলা এবার বিশেষ নজরে—এমনই বার্তা দিয়ে শুরু হয়েছে বিজেপির নতুন রাজনৈতিক প্রস্তুতি। দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শুধু আরেকটি ভোট নয়, বরং ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যেই এই লড়াই।

দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বিশেষ রণকৌশলের নেপথ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গকে ‘হাই প্রাইঅরিটি স্টেট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সম্প্রতি কলকাতা সফরে এসে শাহ স্পষ্ট করেন, আসন্ন ভোটে অনুপ্রবেশ বড় রাজনৈতিক ইস্যু হতে চলেছে।

বিজেপির পরিকল্পনার মূল ভিত্তি চারটি বিষয়—বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ, নারী নিরাপত্তা, রাজনৈতিক হিংসা এবং দুর্নীতি। দলের দাবি, এই চার ক্ষেত্রেই রাজ্যের শাসক দল সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে। প্রতিটি জেলা ও বিধানসভা কেন্দ্রে এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখে তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

অনুপ্রবেশ ইস্যুকে বিজেপি দেখছে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে। সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে রাজ্য সরকারের অনীহার অভিযোগ, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রশ্ন—সবই প্রচারের মূল অস্ত্র। পাশাপাশি রোজভ্যালি, এসএসসি, গরু পাচার, রেশন ও মনরেগার মতো মামলাগুলিকে সামনে এনে দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরদার করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত নিয়েও আলাদা ন্যারেটিভ তৈরি হচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা ও জল জীবন মিশনের মতো প্রকল্পের তথ্য বুথ স্তরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনিক স্তরে দুর্বল নেতৃত্বে রদবদল, নতুন মুখ তুলে ধরা এবং বুথ কর্মীদের সক্রিয় করাও এই কৌশলের অংশ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে বাংলায় বিজেপির সবচেয়ে আক্রমণাত্মক লড়াই।

প্রশ্ন ও উত্তর 


প্রশ্ন ১: ২০২৬ সালের ভোটে বিজেপির প্রধান ইস্যু কী?
উত্তর: অনুপ্রবেশ, নারী নিরাপত্তা, রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্নীতি।

প্রশ্ন ২: কেন পশ্চিমবঙ্গকে ‘হাই প্রাইঅরিটি স্টেট’ বলা হচ্ছে?
উত্তর: বিজেপির লক্ষ্য এবার সরাসরি রাজ্যের ক্ষমতা দখল।

প্রশ্ন ৩: অনুপ্রবেশ ইস্যু কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: বিজেপির মতে, এটি ভোটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রশ্ন ৪: দুর্নীতির কোন কোন মামলা তুলে ধরছে বিজেপি?
উত্তর: এসএসসি, রেশন, মনরেগা, গরু পাচার ও আর্থিক কেলেঙ্কারি।

প্রশ্ন ৫: সংগঠনে কী পরিবর্তন আসতে পারে?
উত্তর: জেলা নেতৃত্বে রদবদল ও বুথ স্তরে কর্মী সক্রিয়তা বাড়ানো।