শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, এমনই এক বিজ্ঞাপন ঘিরে এখন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিহার জুড়ে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তথাকথিত ‘চাকরির বিজ্ঞাপন’ বহু মানুষকে ঠকানোর অভিযোগ উঠেছে।
‘অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট জব’—এই শিরোনামে দেওয়া বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়েছিল, কোনও সন্তানহীন মহিলাকে অন্তঃসত্ত্বা করতে পারলে মিলবে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার। এমনকি সেই কাজে সফল না হলেও নাকি দেওয়া হবে ৫ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি কম সুদে ঋণ ও নানা সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ফাঁদে পা দেওয়া পুরুষদের কাছে প্রথমে কিছু ‘মডেল’-এর ছবি পাঠানো হত। বলা হত, বিনামূল্যেই তাঁদের সঙ্গে যৌন সংসর্গের সুযোগ মিলবে। এরপর রেজিস্ট্রেশন ফি ও হোটেল বুকিংয়ের নামে টাকা চাওয়া হতো। অনেকেই বিশ্বাস করে নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা পর্যন্ত দিয়ে দেন।
কিন্তু টাকা পাঠানোর পরেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় অভিযুক্তদের সঙ্গে। সামাজিক লজ্জা ও ভয়েই বহু প্রতারিত ব্যক্তি থানায় অভিযোগ জানাননি বলে পুলিশের অনুমান।
সমাজমাধ্যমে ঘুরতে থাকা এই বিজ্ঞাপন নজরে আসতেই তদন্ত শুরু করে সাইবার পুলিশ। নওয়াড়ার বাসিন্দা রঞ্জন কুমার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি একজন নাবালককেও আটক করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশের দাবি, এর আগেও নওয়াড়ায় এ ধরনের সাইবার প্রতারণা চক্রের হদিস মিলেছিল। সাধারণ মানুষকে সোশ্যাল মিডিয়ার লোভনীয় বিজ্ঞাপন থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. ‘অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট জব’ কী?
এটি একটি ভুয়ো অনলাইন বিজ্ঞাপন, যার মাধ্যমে সাইবার প্রতারণা করা হয়েছে।
২. কত টাকার প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল?
অন্তঃসত্ত্বা করতে পারলে ১০ লক্ষ টাকা এবং ব্যর্থ হলেও ৫ লক্ষ টাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
৩. প্রতারণা কীভাবে করা হতো?
রেজিস্ট্রেশন ফি ও হোটেল খরচের নামে টাকা নিয়ে পরে যোগাযোগ বন্ধ করা হতো।
৪. পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও একজন নাবালককে আটক করা হয়েছে।
৫. সাধারণ মানুষ কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
সোশ্যাল মিডিয়ার অবাস্তব চাকরির বিজ্ঞাপন এড়িয়ে চলা এবং সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করার পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ।

