হঠাৎ করেই West Bengal potato production ঘিরে রাজ্যে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় এবার হিমঘর নিয়েই বাড়ছে চাপ, আর সেই কারণেই বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এ বছর রাজ্যে আলুর উৎপাদন এক কোটির অনেকটা বেশি হতে পারে। ইতিমধ্যেই নতুন আলু বাজারে আসতে শুরু করেছে জানুয়ারি মাস থেকে। এপ্রিল পর্যন্ত মাঠ থেকে ওঠা আলু সরাসরি বাজারে পৌঁছবে। ফলে হিমঘরে জায়গা নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় হিমঘরে ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণের নির্দেশ জারি হয়েছে। এই সংরক্ষিত অংশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে বিডিও ও পঞ্চায়েত অফিসের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে।
ছোট চাষিরা কিষান ক্রেডিট কার্ড, কৃষকবন্ধু প্রকল্প বা সরকারি শস্য বিমার নথি দেখিয়ে সংরক্ষিত জায়গায় আলু রাখতে পারবেন। বর্তমানে রাজ্যে ৫০০-র বেশি হিমঘর রয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০ লক্ষ টন আলু সংরক্ষণের ক্ষমতা আছে। গত বছর ৭৩ লক্ষ টন আলু মজুত হয়েছিল। এবার সেই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী মহল।
এই মুহূর্তে চাষিরা নতুন আলু বিক্রি করে কেজি প্রতি ৭-৮ টাকা পাচ্ছেন। যা লাভজনক নয় বলে মনে করছেন অনেকেই। ১ মার্চ হিমঘর খোলার পর আলুর বাজারদর কী দাঁড়ায়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে চাষি থেকে সাধারণ ক্রেতা—সবাই।
প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির নেতা লালু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের চাহিদা মেটাতে প্রতি মাসে ৫-৬ লক্ষ টন আলু প্রয়োজন হয়। এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ২০-২৫ লক্ষ টন আলু বাজারে চলে যাবে। অবশিষ্ট অংশই হিমঘরে রাখার জন্য প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য ঘোষণা করে কিছু আলু কিনে নেয়, তাহলে চাষিরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতেও সরকারের হাতে মজুত আলু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ভোটের আবহে আলুর দাম ও মজুত—দু’টিই এখন রাজনীতির আলোচনায়। ফলে আগামী কয়েক মাস আলুর বাজারে কী ঘটে, সেটাই দেখার।

