দিন শেষে মনে হয় অনেক কাজ করার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে খুব কমই সম্পন্ন হয়েছে—এই অনুভূতিটা কি আপনারও পরিচিত? আসলে বড় কোনো সমস্যা নয়, বরং কিছু ছোট কিন্তু ক্ষতিকর অভ্যাসই ধীরে ধীরে আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিচ্ছে।
আজকের ব্যস্ত জীবনে সবাই সফল ও মনোযোগী হতে চায়। কিন্তু যাঁরা সত্যিই এগিয়ে যান, তাঁদের দৈনন্দিন অভ্যাসেই লুকিয়ে থাকে পার্থক্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন অভ্যাসগুলো আপনার কাজের গতি নষ্ট করছে।
মাল্টিটাস্কিংয়ের ফাঁদ
একসঙ্গে অনেক কাজ করলে সময় বাঁচে—এই ধারণা ভুল। গবেষণায় দেখা গেছে, মাল্টিটাস্কিং করলে মনোযোগ বারবার ভাঙে এবং প্রতিটি কাজে ফিরে আসতে অনেক সময় লাগে। এক সময়ে একটি কাজ করলে কাজ দ্রুত শেষ হয় এবং মানও ভালো থাকে।
নোটিফিকেশনের অতিরিক্ত চাপ
মোবাইল ও কম্পিউটারের অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন আপনার মনোযোগ ছিনিয়ে নেয়। কাজের সময় ফোন দূরে রাখা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে সাহায্য করে।
সকালের রুটিনের অভাব
দিনের শুরু যেমন হয়, বাকি সময়ও অনেকটা তেমনই যায়। নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে ওঠা, হালকা ব্যায়াম বা কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে দিনের পরিকল্পনা করলে মন ও সময় দুটোই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সাপ্তাহিক পর্যালোচনা না করা
এক সপ্তাহ শেষে নিজের কাজগুলো ফিরে না দেখলে ভুলগুলো চোখে পড়ে না। নিয়মিত সাপ্তাহিক রিভিউ করলে অগ্রগতি বোঝা যায় এবং পরের সপ্তাহের লক্ষ্য পরিষ্কার হয়।
এই ছোট অভ্যাসগুলো ঠিক করতে পারলেই ধীরে ধীরে আপনার কাজের গতি, মনোযোগ এবং আত্মবিশ্বাস—সবই বাড়বে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: মাল্টিটাস্কিং কি একেবারেই করা উচিত নয়?
উত্তর: গুরুত্বপূর্ণ কাজে নয়, বরং এক সময়ে একটি কাজ করাই ভালো।
প্রশ্ন ২: নোটিফিকেশন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
উত্তর: কাজের সময় ফোন সাইলেন্ট রাখা ও অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করা কার্যকর।
প্রশ্ন ৩: সকালের রুটিন কেন এত জরুরি?
উত্তর: এটি দিনভর মনোযোগ ও সময় ব্যবস্থাপনা সহজ করে।
প্রশ্ন ৪: সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় কী করবেন?
উত্তর: কী কাজ হলো, কী হলো না—তা লিখে পরের সপ্তাহের পরিকল্পনা করুন।
প্রশ্ন ৫: কত দিনে নতুন অভ্যাস তৈরি হয়?
উত্তর: সাধারণত ২১ দিন নিয়মিত চেষ্টা করলে নতুন অভ্যাস গড়ে ওঠে।

