চল্লিশ পেরোলেই কি ভুলে যাওয়ার শুরু? অনেকেই বিষয়টিকে বয়সের স্বাভাবিক অংশ বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়ার প্রক্রিয়া আসলে শুরু হয় অনেক আগেই। তাই সময় থাকতেই যদি জীবনযাত্রায় সচেতন পরিবর্তন আনা যায়, তবে মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।
চল্লিশের পর নিয়মিত শরীরচর্চা খুবই জরুরি। হাঁটা, দৌড়ানো বা সাঁতার কাটার মতো ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ায় এবং স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত অংশকে সক্রিয় রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সময় দিলেই উপকার মিলবে।
খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে পরিবর্তন। সবুজ শাকসবজি, বেরি জাতীয় ফল, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ ও অলিভ অয়েল মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।
মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে নতুন কিছু শেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নতুন ভাষা, বাদ্যযন্ত্র বা সৃজনশীল কোনো কাজ মস্তিষ্কের সংযোগ শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম খুব প্রয়োজন। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম স্মৃতি সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখে।
সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি স্মৃতিশক্তিকেও চাঙ্গা রাখে। পাশাপাশি রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার।
শ্রবণশক্তি কমে গেলে অবহেলা করবেন না। কানে শোনার সমস্যা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান বা যোগব্যায়াম করুন এবং ধূমপান-মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন।
সবশেষে, সুডোকু, দাবা বা শব্দের ধাঁধার মতো খেলায় নিজেকে যুক্ত রাখুন। ছোট ছোট এই অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় সুরক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: চল্লিশের পর কি সত্যিই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে?
উত্তর: হ্যাঁ, এই সময় থেকেই ঝুঁকির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
প্রশ্ন ২: প্রতিদিন কতক্ষণ শরীরচর্চা প্রয়োজন?
উত্তর: অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম যথেষ্ট।
প্রশ্ন ৩: কোন খাবার স্মৃতিশক্তির জন্য সবচেয়ে উপকারী?
উত্তর: সবুজ শাকসবজি, মাছ, বাদাম ও ফল।
প্রশ্ন ৪: কম ঘুম কি স্মৃতিভ্রম বাড়ায়?
উত্তর: হ্যাঁ, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়।
প্রশ্ন ৫: ধাঁধা বা খেলা কি সত্যিই কাজে আসে?
উত্তর: নিয়মিত খেললে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে ও চিন্তাশক্তি বাড়ে।

