হঠাৎই থেমে গেল এক অমর কণ্ঠ—কিন্তু রেখে গেল বহু প্রশ্ন। কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে-এর প্রয়াণের পর তার বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকার নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।
৯২ বছর বয়সে এই সুরসম্রাজ্ঞীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা দেশ শোকাহত। শুধু সংগীত নয়, নিজের কঠোর পরিশ্রমে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তার এই বিপুল সম্পদের মূল উৎস ছিল দীর্ঘ সংগীতজীবন। ২০টিরও বেশি ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়ে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। গানের রয়্যালটি, লাইভ শো, এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেও নিয়মিত আয় করতেন তিনি।
শুধু সংগীত নয়, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও ছিলেন সফল। দুবাইয়ে শুরু হওয়া ‘Asha’s’ রেস্তোরাঁ চেইন আজ আন্তর্জাতিকভাবে বিস্তৃত। এছাড়া মুম্বাই ও পুনেসহ বিভিন্ন শহরে তার বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সম্পত্তি রয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেদনাময়। ২০১২ সালে মেয়ে বর্ষা এবং ২০১৫ সালে ছেলে হেমন্তকে হারান তিনি। এই কঠিন সময়ের পর তার একমাত্র জীবিত ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এবং নাতি-নাতনিরাই এখন তার সম্পদের প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে সামনে আসছেন।
জীবদ্দশায় নরেন্দ্র মোদি-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি তার অবদানের প্রশংসা করেছেন। দাদাসাহেব ফালকে ও পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত এই শিল্পী শুধু সম্পদ নয়, রেখে গেছেন এক অমূল্য সুরের ঐতিহ্য।

