ছোট্ট এক মাঠ, কিন্তু স্বপ্ন আকাশছোঁয়া—আরাবালি ক্রিকেট একাডেমি এখন ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন বিস্ময়ের নাম।
রাজস্থানের জয়পুরের উপকণ্ঠে একটি সাধারণ স্কুল মাঠে গড়ে ওঠা এই একাডেমি থেকেই উঠে আসছেন একের পর এক আইপিএল তারকা। এবারের আইপিএলে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা মুকুল চৌধুরী, কার্তিক শর্মা ও অশোক শর্মা—সবাই এই একাডেমিরই ছাত্র। বিশেষ করে ১৯ বছরের কার্তিক শর্মাকে ১৪.২ কোটি টাকাতে দলে নেওয়ার পর আলোচনায় উঠে এসেছে আরাবালির নাম।
এই একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার বিবেক যাদব। খেলোয়াড় হিসেবে খুব বেশি দূর এগোতে না পারলেও কোচ হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ। তার চোখ ছিল প্রতিভা খোঁজার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ। দুঃখজনকভাবে তিনি এখন আর বেঁচে নেই, কিন্তু তার গড়া একাডেমি আজ সফলতার শিখরে।
আরাবালির বিশেষত্ব হলো—এখানে ক্রিকেট শেখানো হয় আধুনিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের চাহিদা অনুযায়ী। শুধু টেকনিক নয়, খেলোয়াড়দের ম্যাচ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও গড়ে তোলা হয়।
যেমন, অশোক শর্মার ক্ষেত্রে ছোট বয়স থেকেই তার লাইন-লেন্থের ধারাবাহিকতা দেখে গতি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। অন্যদিকে মুকুলকে তৈরি করা হয়েছে একজন ‘পিঞ্চ হিটার’ হিসেবে, যাতে সে বড় শট খেলতে পারে সহজেই। আর কার্তিক শর্মাকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ‘রেঞ্জ হিটিং’-এ, যার জন্য সে প্রতিদিন ৫০০-৭০০ বল পর্যন্ত অনুশীলন করে।
এই একাডেমির আরেকটি বড় শক্তি হলো আবাসিক সুবিধা। রাজস্থানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা এখানে থেকে অনুশীলনের সুযোগ পায়। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই সাধারণ বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে, যাদের পেছনে রয়েছে পরিবারের ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প।
বর্তমান সময়ে আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে জায়গা পাওয়ার জন্য শুধু ঘরোয়া ক্রিকেট নয়, বরং একাডেমি ভিত্তিক প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর সেই পরিবর্তিত ধারার সঙ্গেই নিজেদের মানিয়ে নিয়ে সফলতার নতুন ইতিহাস লিখছে আরাবালি ক্রিকেট একাডেমি।

