ঝলমলে সাফল্যের আড়ালে যে এক গভীর অন্ধকার সময় লুকিয়ে থাকতে পারে, তা মনে করিয়ে দিলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী A. R. Rahman। অস্কার ও গ্র্যামি জয়ী এই শিল্পীর জীবনের শুরুর দিকটা মোটেও সহজ ছিল না—শৈশবে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়েই বড় হয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রহমান জানান, নিজের কঠিন অতীতই তাকে শিখিয়েছে বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে না নিতে। তাই তিনি চান না, তার সন্তানেরা কৃত্রিম নিরাপত্তার বলয়ে বেড়ে উঠুক। পরিবারের যেকোনো সংকট, দুঃসংবাদ বা জটিল পরিস্থিতি তিনি সোজাসুজি সন্তানদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
তার মতে, বাস্তব জীবনের কঠিন দিকগুলো জানা মানে মানসিক চাপ দেওয়া নয়। বরং এতে সন্তানদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হয় এবং তারা ধীরে ধীরে মানসিকভাবে শক্ত হয়ে ওঠে। ধারে জর্জরিত সময়, অনিশ্চয়তা—সবকিছুই তিনি সন্তানদের সামনে খোলাখুলি তুলে ধরেন।
রহমান বলেন, শৈশবে মা ও বোনদের নিয়ে যে কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। সেই দায়বদ্ধতা, সেই সংগ্রামই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক।
তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার ক্ষমতাই মানুষকে এগিয়ে নেয়। আর সেই শিক্ষাটাই তিনি নিজের সন্তানদের দিতে চান—বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে, চোখে চোখ রেখে জীবনকে দেখার সাহস।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: এ আর রহমান শৈশবে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন?
উত্তর: তিনি শৈশবে বড় ধরনের আর্থিক সংকট ও পারিবারিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বড় হয়েছেন।
প্রশ্ন ২: সন্তানদের থেকে কি তিনি পারিবারিক সমস্যা লুকান?
উত্তর: না, তিনি বিশ্বাস করেন সবকিছু খোলাখুলি জানানোতেই।
প্রশ্ন ৩: এতে কি সন্তানদের ওপর মানসিক চাপ পড়ে না?
উত্তর: রহমানের মতে, এটি চাপ নয় বরং মানসিক শক্তি গড়ে তোলে।
প্রশ্ন ৪: কেন তিনি সন্তানদের বাস্তবতা শেখাতে চান?
উত্তর: যাতে তারা দায়িত্বশীল ও বাস্তববাদী মানুষ হিসেবে বড় হয়।
প্রশ্ন ৫: তার জীবনে শৈশবের অভিজ্ঞতার প্রভাব কী?
উত্তর: সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আজকের সফল ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।

