কলকাতায় পা রেখেই রাজনৈতিক পারদ চড়িয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব। আর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে বৈঠকের পর সেই উত্তাপ আরও বেড়েছে। স্পষ্ট ভাষায় অখিলেশ জানিয়ে দিলেন, বিজেপি-কে গোটা দেশে সবচেয়ে শক্তভাবে মোকাবিলা করছেন মমতাই।
মঙ্গলবার প্রায় ৪৫ মিনিট নবান্নে বৈঠক করেন মমতা ও অখিলেশ যাদব। বৈঠক শেষে অখিলেশের মন্তব্য, বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে মমতার সাহস ও দৃঢ়তা অনন্য। তাঁর কথায়, কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনেকেই থাকলেও বাস্তবে মমতার মতো ধারাবাহিক প্রতিরোধ খুব কমই দেখা যায়।
অখিলেশের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধরা হচ্ছে। কারণ, নাম না করেই কংগ্রেসের ভূমিকাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন তিনি। আঞ্চলিক দলগুলির দীর্ঘদিনের অভিযোগ—কংগ্রেস মুখে বড় কথা বললেও ময়দানে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। অখিলেশের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই যেন স্পষ্ট।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এসপি প্রধান। তাঁর দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার আড়ালে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যার নিশানায় রয়েছে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলি, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ।
ইডি-র অভিযান প্রসঙ্গেও মমতার ভূমিকার প্রশংসা করেন অখিলেশ। প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় মমতার উপস্থিতিকে ‘ডিজিটাল ডাকাতি রুখে দেওয়া’ বলেই ব্যাখ্যা করেন তিনি। বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে বলেন, এই সাহসিকতাই কেন্দ্রীয় শাসক দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
দু’দিনের সফরে কলকাতায় আসা অখিলেশের আশা, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপিকে আটকে দেবেন মমতা। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি লড়াই করবে শুধু সম্মানজনক হারের জন্য।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. নবান্নে মমতা–অখিলেশ বৈঠকের মূল বার্তা কী?
বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে মমতার নেতৃত্ব ও সাহসের প্রশংসা।
২. অখিলেশ কি কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন?
নাম না করে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
৩. ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি কোথায়?
ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে।
৪. ইডি ইস্যুতে মমতার ভূমিকা কী?
তৃণমূলের তথ্য সুরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি।
৫. পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপি নিয়ে অখিলেশের মন্তব্য কী?
তিনি মনে করেন বিজেপি সম্মানজনক হারের জন্য লড়ছে।

