মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক নিগ্রহে প্রতিবাদ, সম্বলপুরে পৌঁছলেন অধীর চৌধুরী

Published By: Khabar India Online | Published On:

ভিন্‌রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে আতঙ্ক—এই বাস্তবতাই যেন এখন মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিত্যসঙ্গী। ওড়িশায় ধারাবাহিক নিগ্রহের অভিযোগের মাঝেই রবিবার সম্বলপুরে পৌঁছে যান কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী

বিজেপি শাসিত ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় বাংলায় কথা বলার জন্য পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ দাগিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সেই পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সম্বলপুরের পেনসিল মোড় বা লেবার চকে যান অধীর। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন।

অধীর শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নজরে এনেছেন এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে ওড়িশার কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।

গত কয়েক সপ্তাহে ওড়িশার সম্বলপুর, ভুবনেশ্বর ও ভদ্রকে একের পর এক নিগ্রহের অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিচয় সংক্রান্ত বিভ্রান্তি বা নিছক সন্দেহের বশে আক্রমণের শিকার হয়েছেন বহু শ্রমিক। বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ মার খেয়ে মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদের যুবক জুয়েল শেখের। আরও একাধিক শ্রমিক গুরুতর জখম হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

সম্বলপুরে অধীরের উপস্থিতিতে অনেক শ্রমিক আবেগে ভেঙে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, বারবার বাংলাদেশি বলে গালিগালাজ ও হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। অধীর স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন, পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের উপর অত্যাচার বন্ধ না হলে তিনি ওড়িশায় গিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ করবেন।

হঠাৎ করে অধীরের আগমনে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের আশা, এই উদ্যোগের ফলে ভিন্‌রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে নিরাপত্তা ও মর্যাদা ফিরে পাবেন তাঁরা।

 প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: অধীর চৌধুরী কেন সম্বলপুরে গিয়েছিলেন?
উত্তর: ওড়িশায় পরিযায়ী শ্রমিক নিগ্রহের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবং শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে।

প্রশ্ন ২: শ্রমিকদের উপর কেন হামলার অভিযোগ উঠছে?
উত্তর: বাংলায় কথা বলার কারণে তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে আক্রমণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

প্রশ্ন ৩: অধীর কি কেন্দ্রকে বিষয়টি জানিয়েছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান।

প্রশ্ন ৪: কংগ্রেস কী পদক্ষেপের কথা বলেছে?
উত্তর: প্রয়োজনে ওড়িশায় গিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

প্রশ্ন ৫: শ্রমিকদের কী পরামর্শ দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে এবং সমস্যায় পড়লে স্থানীয় কংগ্রেস কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে।