ইরানের ৫ হাজারের বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের— মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এই দাবি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ১০ দিনের সামরিক অভিযানে ইরানের পাঁচ হাজারেরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। এই অভিযানে নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ৫০টিরও বেশি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান রয়েছে। এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা, সামরিক যোগাযোগ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন কমান্ড সেন্টারও হামলার শিকার হয়েছে।
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান শুরু করে বলে জানা যায়।
সংঘাতের প্রথম দিনেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওইদিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালানো হয়।
এই হামলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও একাধিক তেল ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এসব হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

