মেক্সিকো বিশ্বকাপ নিরাপত্তা নিয়ে শুরু হয়েছে তৎপরতা। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করতে ফিফা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি একটি সামরিক অভিযানে মাদক সম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা কারভান্টেস, যিনি “এল মেনচো” নামে পরিচিত, নিহত হওয়ার পর মেক্সিকোর কয়েকটি অঞ্চলে সহিংসতা দেখা দেয়। সেই ঘটনার পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে ফেডারেল নিরাপত্তা সচিব ওমর গার্সিয়া হারফুচ জানান, বিশ্বকাপ চলাকালে গোয়েন্দা নজরদারি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং অপারেশনাল নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এই ইভেন্টে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এর মধ্যে মেক্সিকোতে মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটি, গুয়ারাডালাজারা এবং মন্টেরে—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ জুন। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হবে। প্রায় দুই বছর সংস্কারের পর ২৮ মার্চ পর্তুগালের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে স্টেডিয়ামটি আবার খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপের সময় এই স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৮৭ হাজার দর্শক।
বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফিফা প্রতিনিধি ছাড়াও মেক্সিকোর সিকিউরিটি ক্যাবিনেট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মেক্সিকো সিটি, জালিস্কো এবং নুয়েভো লিওন অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
এদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিয়েনবম জানিয়েছেন, ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে বিশ্বকাপ চলাকালে দেশটিতে আগত দর্শক ও দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তার মতে, পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে যাতে টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।
বিশ্বকাপের ম্যাচ ছাড়াও মার্চ মাসে পর্তুগালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ এবং গুয়াডালাজারা ও মন্টেরেতে ছয় দলের আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবে জ্যামাইকা, ইরাক, ডিআর কঙ্গো, সুরিনাম, নিউ ক্যালেডোনিয়া ও বলিভিয়া।
এর আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট শিয়েনবম। সহিংস ঘটনার পরও মেক্সিকোর বিশ্বকাপ আয়োজনের সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন ফিফা সভাপতি।

