একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে হঠাৎ করেই উত্তাল হয়ে উঠল বিহারের রাজনীতি। Nitish Kumar Rajya Sabha জল্পনা ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পটনার রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করেন জেডিইউ কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে নীতীশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে রাজ্যসভায় পাঠানোর চেষ্টা করছে।
বুধবার রাতেই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিতে পারেন। সেই খবর সামনে আসতেই জেডিইউ কর্মীদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকালে পটনায় দলের রাজ্য দফতরের সামনে বিক্ষোভ হয় এবং মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাংলোর সামনেও কর্মীরা জড়ো হন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব দখল করতেই বিজেপি এই রাজনৈতিক চাল চালছে। তাঁদের মতে, বিহারের মানুষ নীতীশ কুমারের নামে ভোট দিয়েছেন এবং তাঁকে সরানো হলে তা জনমতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।
এদিকে এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারাও। বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত বিহারের মানুষের সঙ্গে প্রতারণার সমান। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সবসময়ই দলিত ও ওবিসি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনীতি করেছে।
রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেন নীতীশ কুমার। তাঁর সঙ্গে মনোনয়ন জমা দেন বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনও। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন বিহারের দুই উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি এবং বিজয়কুমার সিংহ।
নীতীশ কুমার যদি জাতীয় রাজনীতিতে চলে যান, তবে বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিধায়ক সংখ্যার হিসেবে এগিয়ে থাকায় বিজেপির হাতে প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর পদ যেতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যে কয়েকটি নাম সামনে আসছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি। তিনি ওবিসি সম্প্রদায়ের নেতা এবং রাজ্যে বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
অন্যদিকে বিক্ষোভরত জেডিইউ নেতাদের একাংশ দাবি করেছেন, নীতীশ কুমারই মুখ্যমন্ত্রী থাকুন। এমনকি কেউ কেউ বলেছেন, যদি রাজ্যসভায় কাউকে পাঠাতে হয় তবে তাঁর ছেলে নিশান্তকে পাঠানো যেতে পারে।
ফলে সব মিলিয়ে বিহারের রাজনীতি এখন তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে। রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনে রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

