টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন নতুন করে জন্ম নিলেন সাঞ্জু স্যামসন। ফোন বন্ধ, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে—নীরব প্রস্তুতির ফল মিলল ঠিক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে স্যামসন খেললেন অপরাজিত ৯৭ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস। মাত্র ৫০ বলে সাজানো এই ঝলমলে পারফরম্যান্সে ভারত পৌঁছে গেল সেমিফাইনালে। অথচ পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ছিলেন ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে। সাত ম্যাচে মাত্র তৃতীয়বার সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজে ছিলেন অফ ফর্মে। চলতি টুর্নামেন্টের আগের দুই ম্যাচেও ত্রিশের ঘর ছুঁতে পারেননি। রান খরা আর সমালোচনার চাপে অনেকেই ভেঙে পড়েন। কিন্তু স্যামসন বেছে নিলেন অন্য পথ।
তিনি জানান, গত দশ দিন ফোন বন্ধ রেখেছিলেন। সমাজমাধ্যম থেকেও দূরে ছিলেন। নিজের ওপর আস্থা রেখেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেন। নেতিবাচক ভাবনা দূরে সরিয়ে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলাই ছিল তার লক্ষ্য।
কলকাতার এই ইনিংস তার কাছে শুধুই রান নয়, বরং স্বপ্নপূরণ। কেরালার ত্রিবান্দ্রমের এক তরুণ ক্রিকেটারের দেশের হয়ে বড় ম্যাচ জেতানোর স্বপ্ন—সেটিই বাস্তবে রূপ নিল এই বিশ্বকাপে। শত শত ক্রিকেটারের মতো তিনিও এমন দিনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। আর সেই স্বপ্ন দেখার সাহসই তাকে পৌঁছে দিল বিশেষ এক উচ্চতায়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাঞ্জু স্যামসনের এই প্রত্যাবর্তন এখন ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

