ভোটব্যবস্থায় প্রযুক্তির ঝুঁকি, আইআইআইডিইএম-এর রিপোর্টে নতুন উদ্বেগ

Published By: Khabar India Online | Published On:

নির্বাচন কমিশনের সামনে কি তৈরি হচ্ছে এক নতুন প্রযুক্তিগত সঙ্কট? বিশেষজ্ঞ মহলের সাম্প্রতিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন।

বর্তমানে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় তিন দিক থেকে চাপ তৈরি হয়েছে— তথ্য ডিজিটাইজেশন, ইভিএম ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক এবং কৃত্রিম মেধার (AI) ব্যবহার। এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ সংস্থা India International Institute of Democracy and Election Management (আইআইআইডিইএম)।

সংস্থাটি মূলত নির্বাচন কর্মী ও আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার কাজ করে। সম্প্রতি আয়োজিত ‘AI and Elections: Innovation, Integrity and Institutional Preparedness’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের বিষয়ে এখনই সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ডেটা সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ

ভোটার তালিকার ডিজিটাইজেশন যেমন প্রশাসনিক কাজ সহজ করেছে, তেমনই বেড়েছে তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা। বড় আকারের ডেটা ব্যবস্থাপনায় সামান্য ত্রুটিও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

সম্প্রতি বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করতে AI ব্যবহারের কথা জানিয়েছে Election Commission of India। কমিশনের দাবি, উন্নত ডেটা স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্যে অসঙ্গতি ধরা সম্ভব হবে। তবে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ শনাক্তকরণ কতটা নির্ভুল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইভিএম নিয়ে পুরনো বিতর্ক

স্বয়ংক্রিয় ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা বা Electronic Voting Machine (ইভিএম) নিয়েও আলোচনায় এসেছে নতুন করে স্বচ্ছতার প্রসঙ্গ। প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা হ্যাকিংয়ের আশঙ্কা নিয়ে অতীতেও বিতর্ক হয়েছে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় আস্থা বজায় রাখতে হলে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

এআই ও ডিপফেকের ঝুঁকি

ভোটের প্রচারে AI-জেনারেটেড ডিপফেক ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে আলোচনায়। ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে AI ভোটার পরিষেবা উন্নত করতে পারে, প্রশাসনিক পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও নিখুঁত করতে পারে।

নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।