দীর্ঘদিনের রাগ কি শরীরের জন্য বিপদ? রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে নতুন সতর্কতা

Published By: Khabar India Online | Published On:

Chronic Anger Effects—শুধু মানসিক অস্থিরতা নয়, নীরবে আপনার শরীরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সামান্য রাগ স্বাভাবিক, কিন্তু যখন তা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বা চেপে রাখা হতাশায় রূপ নেয়, তখন শুরু হয় ভেতরের অদৃশ্য লড়াই।

রাগের মুহূর্তে শরীর ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ মোডে চলে যায়। তখন অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল বেড়ে যায়। অল্প সময়ের জন্য এগুলো শক্তি ও সতর্কতা বাড়ায়। কিন্তু বারবার এমন হলে কর্টিসলের উচ্চমাত্রা সাদা রক্তকণিকার কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ভাইরাস ও অস্বাভাবিক কোষের বিরুদ্ধে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র রাগ শরীরে প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইন বাড়াতে পারে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী নিম্নমাত্রার প্রদাহ তৈরি হয়, যা ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে অটোইমিউন সমস্যার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।

দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতা বা শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব অ্যান্টিবডি উৎপাদনেও প্রভাব ফেলতে পারে। এতে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকেও ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ট্রমা বা দমিয়ে রাখা রাগ শরীরকে স্থায়ী সতর্ক অবস্থায় রাখে, যা ইমিউন সিস্টেমকে কখনো অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীল, কখনো দুর্বল করে তোলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক-দুই মিনিটের রাগে স্থায়ী ক্ষতি হয় না। সমস্যা তখনই বাড়ে, যখন রাগ অভ্যাসে পরিণত হয়।

কী করবেন?

রাগ দমন না করে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

  • নিজের রাগের ট্রিগার চিহ্নিত করুন

  • ৯০ সেকেন্ড গভীর শ্বাস নিন

  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন

  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

  • প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং নিন

রাগকে শত্রু না ভেবে সংকেত হিসেবে দেখুন। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে শরীর-মন দুটোই সুস্থ রাখা সম্ভব।