বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতার মাঝেই India–France Innovation Forum থেকে এল এক বড় বার্তা। মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রো ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও উদ্ভাবনী শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করলেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও ইনোভেশনের ক্ষেত্রে ভারত আর শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং নেতৃত্বদানকারী শক্তি। বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার শীর্ষপদে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওদের উপস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি ভারতের মানবসম্পদ ও প্রতিভার বিশেষ স্বীকৃতি দেন।
ম্যাক্রো বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, একটি খ্যাতনামা ফরাসি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের সিইও মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের বাসিন্দা। তাঁর এই সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভারতীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ম্যাক্রো ভারতের বিশাল জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে দ্রুত ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সক্ষমতারও প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাক্রোর তিন দিনের ভারত সফরের শুরুতেই দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে “স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ”-এ উন্নীত করার ঘোষণা করে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় ভারত ও ফ্রান্স।
যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব এক শক্তিশালী স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি জানান, ফ্রান্স ভারতের অন্যতম প্রাচীন কৌশলগত অংশীদার এবং এই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোর সঙ্গে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “আজ আমরা আমাদের সম্পর্ককে বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করছি।”
এই ফোরামের বার্তা স্পষ্ট— বিশ্ব উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির মানচিত্রে ভারত এখন কেন্দ্রীয় শক্তি, আর সেই যাত্রায় ফ্রান্স ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে।

