প্রতীক উর রহমানকে ঘিরে সিপিএমে টানাপোড়েন, মানভঞ্জনে নামলেন বিমান বসু

Published By: Khabar India Online | Published On:

হঠাৎ করেই Pratik ur Rahman-কে ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সিপিএমের অন্দরমহলে তৈরি হয়েছে নতুন অস্বস্তি, আর সেই জট ছাড়াতে মাঠে নামতে হয়েছে প্রবীণ নেতা Biman Bose-কে।

তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমান নিজের ইস্তফাপত্রে স্পষ্ট জানিয়েছেন, জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কাজের ধরন তাঁর সঙ্গে মিলছে না। শুধু দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো নয়, পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদও ছাড়তে চান তিনি। এই বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে বিমানের কথাবার্তা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন প্রতীক উর। তাঁকে রাজ্য দফতরে ডাকা হলেও তিনি সঙ্গে সঙ্গেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। বুধবার রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক ও পরবর্তী রাজ্য কমিটির সভার পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়েই এখন জল্পনা।

প্রতীক উর রহমান দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের গ্রামাঞ্চল থেকে উঠে আসা নেতা। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি এসএফআইয়ের দুই মেয়াদে রাজ্য সভাপতি ছিলেন। গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন এবং সক্রিয় বিরোধী রাজনীতির মুখ হিসেবেই পরিচিত।

দলের একাংশের মতে, গরিব মুসলিম পরিবার থেকে উঠে এসে রাজ্য কমিটির নেতৃত্বে পৌঁছনো প্রতীক উর রহমানের দলত্যাগের সম্ভাবনা বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা দেবে। বিশেষ করে যখন রাজ্য সম্পাদক পদে রয়েছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা Mohammed Salim, তখন এই পরিস্থিতি সিপিএমের জন্য অস্বস্তিকর বলেই মনে করছেন অনেকে।

ইতিহাস ঘেঁটে অনেকেই স্মরণ করছেন, অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাধিক নেতা দল ছেড়েছেন। ফলে প্রতীক উর রহমানের সিদ্ধান্তকে অনেকেই কেবল ব্যক্তিগত পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বৃহত্তর সাংগঠনিক সংকেত হিসেবেও দেখছেন।

এখন প্রশ্ন একটাই—প্রতীক উর রহমান শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন? আপাতত তিনি ‘ভাবনাচিন্তা’র সময় চাইছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন আলিমুদ্দিনের দিকেই।