ধর্মতলার বুকে বহু আলোচিত Grand Hotel hawker issue-এর জট অবশেষে কাটল। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর প্রশাসন ও হোটেল কর্তৃপক্ষের আলোচনায় মিলল নতুন সমাধানসূত্র।
ধর্মতলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড হোটেলের সামনে ফুটপাত দখল নিয়ে বহুদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। হোটেল সংস্কারের কাজ যাতে বাধাহীনভাবে এগোতে পারে, সেই দাবি জানিয়ে কর্তৃপক্ষ কলকাতা পুরসভার কাছে আবেদন জানায়। বিষয়টি টাউন ভেন্ডিং কমিটির বৈঠকে ওঠে এবং সেখানেই নেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, একযোগে সব হকার সরানো হবে না। বরং তিন থেকে চারটি ধাপে সংস্কারের কাজ এগোবে। যে অংশে কাজ চলবে, শুধুমাত্র সেই অংশের হকারদের দেড় থেকে দু’মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে সরানো হবে। কাজ শেষ হলেই তাঁরা আবার নির্দিষ্ট জায়গায় বসতে পারবেন।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, “পুরো এক বছর হকার সরিয়ে রাখা বাস্তবসম্মত নয়। জীবিকার বিষয়টি মাথায় রেখেই সময়সীমা বেঁধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভায় টিভিসি-র বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হকার পুনর্বাসন সংক্রান্ত মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, কো-চেয়ারম্যান স্বপন সমাদ্দার, বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ। আলোচনার ভিত্তিতেই এই নতুন রূপরেখা তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। হোটেল কর্তৃপক্ষ কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল। পরবর্তীতে পুরসভা, পুলিশ ও টিভিসির যৌথ উদ্যোগে নির্দিষ্ট অংশে হকার বসানোর ব্যবস্থা করা হলেও সময়ের সঙ্গে তা শিথিল হয়ে পড়ে।
এবার প্রশাসনের দাবি, নতুন পরিকল্পনায় যেমন হোটেলের সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন হবে, তেমনই হকারদের রুজিরুটি পুরোপুরি বন্ধ হবে না। অর্থাৎ উচ্ছেদ নয়, বরং সমন্বয়ের পথেই সমাধান।

