গণহারে ভোটার বাদ? সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সওয়াল

Published By: Khabar India Online | Published On:

হঠাৎ করেই সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে নজর কেড়েছে বাংলার ভোটার তালিকা বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র করা মামলার শুনানিতে স্পষ্ট বার্তা দিল Supreme Court of India—এসআইআর প্রক্রিয়া কোনওভাবেই বিঘ্নিত করা যাবে না।

সোমবারের শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত না থাকলেও তাঁর আইনজীবীরা জোর সওয়াল করেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল করা অস্বাভাবিক নয়, বরং তা সংবিধানের প্রতি আস্থার প্রতীক। এই বিষয়কে রাজনীতিকরণ না করার পরামর্শও দেন তিনি।

আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান অভিযোগ তোলেন, গণহারে ভোটার নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আধার বা তথাকথিত ফ্যামিলি রেজিস্টার ছাড়া অন্য নথিকে সন্দেহজনক ধরে বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তাঁর আশঙ্কা, ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলে বিষয়টি ফেইট অ্যাকমপ্লি হয়ে যাবে।

কল্যাণ ব্যানার্জি অভিযোগ করেন, হাজার হাজার আপত্তি একসঙ্গে জমা পড়ছে, অনেক ক্ষেত্রেই আপত্তিকারীর পরিচয় নেই। অভিষেক মনু সিংভি জানান, প্রশিক্ষিত রাজ্য অফিসার থাকা সত্ত্বেও বাইরের রাজ্যের কর্মী আনার ফলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। বাংলায় নামের পদবি ও মধ্যনামের বৈচিত্র্য সফটওয়্যার ধরতে পারছে না বলেই তাঁর পর্যবেক্ষণ। একই অভিভাবকের একাধিক সন্তানের ক্ষেত্রে বয়সের ফারাককে সন্দেহজনক ধরা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

শুনানি শেষে আদালত একাধিক অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়। রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রুপ-বি অফিসারদের রিপোর্ট নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে Election Commission of India-কে প্রয়োজন অনুযায়ী ERO ও AERO নিয়োগের স্বাধীনতাও দেওয়া হয়েছে। নথি যাচাইয়ের জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও এক সপ্তাহ সময় বাড়ানো হয়েছে।

এদিন রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে শো-কজ নোটিস দেওয়ার কথাও জানানো হয়। অভিযোগ, আপত্তিপত্র পোড়ানোর ঘটনায় FIR হয়নি। এই প্রসঙ্গে আদালতে তীব্র বিতর্কও দেখা যায়।