ভেনেজুয়েলার পর এবার নজর কিউবার দিকে। হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে না এলে কিউবাকে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে— এমনই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। সেই আদেশ অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি কিউবায় তেল রপ্তানি করে, তবে সেই দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে কিউবার জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট Claudia Sheinbaum। তাঁর বক্তব্য, এই নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়বে কিউবার হাসপাতাল ও মৌলিক পরিষেবায়, যার ফলে দেশটিতে দ্রুত মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
রবিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, কিউবা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসে, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন, বর্তমানে কিউবার অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল এবং দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
উল্লেখ্য, জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট Nicolas Maduro-কে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এই প্রেক্ষাপটেই কিউবার ওপর নতুন চাপ বাড়াল ট্রাম্প প্রশাসন।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবা যদি চুক্তিতে না আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিউবান নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।

