চ্যাটজিপিটি কীভাবে জানে আপনার ব্যক্তিগত জীবন? বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

Published By: Khabar India Online | Published On:

একটি নিরীহ প্রশ্নই বদলে দিল সবকিছু। আর সেই প্রশ্নের উত্তর দিল মানুষ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। চ্যাটজিপিটির একটি বাক্যেই প্রকাশ্যে এলো এক প্রেমিকের গোপন সংসারজীবন—ঘটনাটি এখন রীতিমতো শোরগোল ফেলেছে প্রযুক্তি দুনিয়ায়।

বর্তমানে এআই ও মানুষের সম্পর্ক দিন দিন ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, এমনকি প্রেম ও সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অনেকেই ভরসা রাখছেন ChatGPT-এর ওপর। কিন্তু এই নির্ভরতার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বড় ঝুঁকি।

সম্প্রতি ২৭ বছরের এক তরুণী জানতে পারেন, তার প্রেমিক আসলে বিবাহিত এবং সন্তানের বাবা। অবাক করার বিষয়, এই সত্যটি প্রকাশ করে দেয় চ্যাটজিপিটি নিজেই। ডেটিং কোচ ব্লেন অ্যান্ডারসনের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিয়মিত চ্যাটজিপিটির সঙ্গে নিজের জীবনের নানা কথা শেয়ার করতেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এআই এমন একটি উত্তর দেয়, যা মুহূর্তে ফাঁস করে দেয় বাস্তব সত্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটি নিজে থেকে কিছু জানে না। ব্যবহারকারী দিনের পর দিন যে তথ্য, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, সেগুলো বিশ্লেষণ করেই যুক্তিসংগত উত্তর দেয় এআই। ফলে ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য দিলে, তা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এআই মানুষের মতো আবেগ বোঝে না, কিন্তু তথ্য বিশ্লেষণে অত্যন্ত দক্ষ। প্রেম, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পারিবারিক বিষয় নিয়ে বেশি কথা বললে ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, চ্যাটজিপিটিকে সহায়ক টুল হিসেবে ব্যবহার করুন, ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে নয়।

নিরাপদ থাকতে কী করবেন?
নিজের বা অন্যের বৈবাহিক অবস্থা, গোপন সম্পর্ক, ঠিকানা, ফোন নম্বর কিংবা আইনি বা সামাজিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন কোনো তথ্য এআইয়ের সঙ্গে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মানুষের পরামর্শই সবচেয়ে নিরাপদ।