এক মুহূর্তের অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড়সড় সাইবার বিপদ। অনলাইন মিটিং, ভিডিও কল কিংবা অনলাইন ক্লাসের প্রয়োজনে আজ ওয়েবক্যাম ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু প্রয়োজন না থাকলেও দীর্ঘ সময় ওয়েবক্যাম চালু রাখার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে, যা সাইবার অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে হ্যাকাররা গোপনে ওয়েবক্যামের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এতে ব্যক্তিগত মুহূর্ত রেকর্ড হওয়া থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন নজরদারির ঝুঁকিও থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ভিডিও বা ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেলের ঘটনাও ঘটছে।
নিরাপদ থাকতে হলে, যেসব সময় ওয়েবক্যামের প্রয়োজন নেই, তখন সেটি স্লাইড কভার বা টেপ দিয়ে ঢেকে রাখা ভালো। পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, স্মার্টফোন বা ট্যাব—সব ডিভাইসে নিয়মিত অ্যান্টিভাইরাস ও অ্যান্টি-স্পাইওয়্যার স্ক্যান চালানো জরুরি। কোনো সন্দেহজনক ফাইল ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে কোয়ারান্টিন বা ডিলিট করতে হবে।
নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার সময় অ্যাপটি কী ধরনের পারমিশন চাইছে, বিশেষ করে অপ্রয়োজনে ক্যামেরা অ্যাকসেস নিচ্ছে কি না, তা ভালোভাবে খেয়াল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপরিচিত ইমেল, সন্দেহজনক লিংক বা সোশ্যাল মিডিয়ার শর্ট লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।
ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখা এবং ফায়ারওয়াল অন রাখা সাইবার আক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চাইলে কাজের সময় ছাড়া ডিভাইসের সেটিংস থেকেই ক্যামেরা সম্পূর্ণ ডিসেবল করে রাখাও একটি কার্যকর উপায়।

