হঠাৎ সিদ্ধান্ত, আর তাতেই শুরু জল্পনা। চলতি জানুয়ারিতে জব্দ করা একটি তেলবাহী সুপারট্যাংকার ভেনেজুয়েলাকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুইজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বর থেকে অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার মোট সাতটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। সর্বশেষ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে এম/টি সোফিয়া নামের সুপারট্যাংকারটি আটক করা হয়। জাহাজটির প্রকৃত মালিকানা পানামার হলেও এটি লিজে ব্যবহার করছিল ভেনেজুয়েলা।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই এম/টি সোফিয়া ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, এবং বাকি ছয়টি জাহাজের ভবিষ্যৎ কী— সে বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মার্কিন কোস্টগার্ডের মুখপাত্রদের কাছ থেকেও স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকারি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তারাও বিষয়টি নিয়ে নীরবতা বজায় রেখেছে।
উল্লেখ্য, জানুয়ারির শুরুতে কারাকাসে অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেয়।
এম/টি সোফিয়া জব্দের সময় সেটি অপরিশোধিত তেলে ভর্তি ছিল। জাহাজের সঙ্গে সেই তেলও ফেরত দেওয়া হবে কি না— তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই সিদ্ধান্ত ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

