নিউ টাউনের এক হোটেলের বৈঠক ঘিরেই ফের অস্বস্তিতে সিপিএম। বুধবার রাতে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠক সামনে আসতেই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রবীণ নেতারাও মানছেন, সাম্প্রতিক কালে মাত্র একটি বৈঠক ঘিরে এমন বিভাজন দেখা যায়নি।
দলের একাংশের অভিযোগ, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীকে না জানিয়ে কেন সেলিম এই বৈঠক করলেন, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। ‘কেন সম্পাদককেই যেতে হল’—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আলিমুদ্দিনে। অন্য দিকে সেলিম ঘনিষ্ঠদের দাবি, রাজনীতিতে কথাবার্তা চলতেই পারে, এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই।
বিতর্ক আরও বেড়েছে হুমায়ুন কবীরের অতীত মন্তব্য ও অবস্থান ঘিরে। বাবরি মসজিদ শিলান্যাস থেকে বিজেপি সমর্থন নেওয়ার মন্তব্য—সব মিলিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক সিপিএমের আদর্শকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মত অনেকের। সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন দলের কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে নাট্য ও সাহিত্যজগতের প্রতিনিধিরাও।
সেলিম অবশ্য জানিয়েছেন, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতেই তিনি বৈঠক করেছেন। দলের ভিতরে একাংশ মনে করছে, মালদহ-মুর্শিদাবাদের বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ। আবার অন্য অংশের আশঙ্কা, এই ধরনের বৈঠক উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকায় দলের ক্ষতি করবে।
সব মিলিয়ে, আগামী রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই প্রসঙ্গ যে বড় জায়গা নেবে, তা প্রায় নিশ্চিত। সেলিমের সিদ্ধান্ত সিপিএমকে নতুন পথে নিয়ে যাবে, না কি আরও বিতর্কে জড়াবে—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।

