বিশ্ব রাজনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই দাভোস থেকে উঠে এল কড়া সতর্কবার্তা। সুইজারল্যান্ডে চলা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে চীন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, পৃথিবী আর কখনও ‘জঙ্গলের শাসনে’ ফিরে যেতে পারে না।
মঙ্গলবার ডব্লিউইএফ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং বলেন, কিছু শক্তিশালী দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে বিশ্বব্যবস্থা পরিচালিত হতে পারে না। যেখানে শক্তিশালীরা দুর্বলদের শিকার করে, এমন বাস্তবতা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়।
এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলের উদ্যোগ জোরদার করেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। সামরিক বিমান পাঠানোসহ একাধিক আগ্রাসী পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
হে লিফেং আরও বলেন, প্রতিটি দেশেরই তার বৈধ স্বার্থ রক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে সেই অধিকার যেন আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের মধ্যেই থাকে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া বিশ্বে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে বহু দেশ উদ্বিগ্ন। সেই প্রেক্ষিতেই দাভোসে চীনের এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: চীন কেন ‘জঙ্গলের শাসন’ কথাটি ব্যবহার করেছে?
উত্তর: শক্তিশালীদের একতরফা আধিপত্য ও দুর্বল দেশগুলোর উপর চাপের সমালোচনা করতেই এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছে চীন।
প্রশ্ন ২: বক্তব্যটি কোথায় দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে।
প্রশ্ন ৩: এই মন্তব্য কি যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে?
উত্তর: সরাসরি নাম না করলেও গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ ও সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
প্রশ্ন ৪: চীনের মূল বার্তা কী?
উত্তর: আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম মেনে বিশ্বব্যবস্থা পরিচালনা করা।
প্রশ্ন ৫: এই বক্তব্যের প্রভাব কী হতে পারে?
উত্তর: বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য ও কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।

