হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠা বেলডাঙা নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিল Calcutta High Court। আদালত জানিয়ে দিল, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এই ঘটনার তদন্ত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা National Investigation Agency-কে দিয়ে করাতে পারে। মানুষের জীবন, স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করাই আদালতের প্রধান লক্ষ্য বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি Sujay Pal ও বিচারপতি Parthasarathi Sen-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, প্রয়োজনে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও বাহিনী চাইতে পারে। এতে কোনও আইনি বাধা নেই। পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যাতে কারও জীবন ও সম্পত্তি বিপন্ন না হয়, তার দায়িত্ব জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের।
ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি Beldanga এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে অশান্তি। রেল অবরোধ, জাতীয় সড়কে বিক্ষোভ, ভাঙচুর এমনকি সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ পর্যন্ত করতে হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় হাই কোর্টে, যার মধ্যে ছিলেন বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই এলাকায় বারবার হিংসার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশের গাড়ি ও সরকারি সম্পত্তিতে হামলা হয়েছে, জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়েছে— এই সব বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই। আদালত জানায়, গত বছরের এপ্রিল মাসের নির্দেশ এখনও কার্যকর রয়েছে এবং এই মামলাও আগের মামলাগুলির সঙ্গে যুক্ত হবে।
এনআইএ তদন্তের দাবিতে আদালত জানায়, এনআইএ আইনের ৬(৫) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এলাকায় মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কার্যকর ভাবে ব্যবহার করতে। বর্তমানে মুর্শিদাবাদে পাঁচ কোম্পানি সিএপিএফ বাহিনী রয়েছে বলেও জানানো হয়।
হাই কোর্টের আরও নির্দেশ, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে— কত বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং কী ভাবে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। চার সপ্তাহ পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: বেলডাঙা অশান্তির তদন্ত কে করবে?
উত্তর: কেন্দ্র চাইলে এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট।
প্রশ্ন ২: রাজ্য সরকারকে কী নির্দেশ দিয়েছে আদালত?
উত্তর: কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার ও ১৫ দিনের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: বর্তমানে কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে?
উত্তর: মুর্শিদাবাদে পাঁচ কোম্পানি সিএপিএফ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
প্রশ্ন ৪: অশান্তির মূল কারণ কী?
উত্তর: ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়।
প্রশ্ন ৫: মামলার পরবর্তী শুনানি কবে?
উত্তর: চার সপ্তাহ পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

