বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আবারও প্রশ্নের মুখে আন্তর্জাতিক আইন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ এমন আচরণ করছে যেন আন্তর্জাতিক আইন তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেন, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণে এখন বহুপাক্ষিক সমাধানের গুরুত্ব কমে গেছে। বরং মার্কিন ক্ষমতা ও প্রভাব প্রয়োগই হয়ে উঠেছে প্রধান হাতিয়ার, যা অনেক সময় আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখা অতিক্রম করছে।
তিনি মনে করেন, এই প্রবণতা শুধু বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেই নয়, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল নীতিগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সমতার ধারণা দুর্বল হয়ে পড়ছে, আর শক্তিধর দেশগুলো দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও জোরদার করছে।
গুতেরেস স্বীকার করেন, আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর করতে জাতিসংঘের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বড় শক্তিগুলোর হাতে চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় অনেক সময় স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান অধরাই থেকে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ কাঠামো আধুনিক বিশ্বের বাস্তবতা প্রতিফলনে ব্যর্থ। ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানের পথকে বারবার রুদ্ধ করছে। তবুও গুতেরেস আশাবাদী, শক্তিশালীদের চ্যালেঞ্জ না করলে একটি ভালো ও ন্যায্য বিশ্ব গড়া সম্ভব নয়।
প্রশ্ন ও উত্তর
1. গুতেরেস কেন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন?
আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ক্ষমতার প্রয়োগ বাড়ানোর অভিযোগে তিনি এই সমালোচনা করেছেন।
2. তাঁর মতে যুক্তরাষ্ট্রের কোন নীতি উদ্বেগজনক?
বহুপাক্ষিক সমাধানকে গুরুত্ব না দিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা।
3. এতে জাতিসংঘ কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে?
জাতিসংঘের নীতিমালা ও সদস্যরাষ্ট্রের সমতার ধারণা দুর্বল হচ্ছে।
4. নিরাপত্তা পরিষদ নিয়ে গুতেরেসের অভিযোগ কী?
ভেটো ক্ষমতার কারণে পরিষদ অকার্যকর হয়ে পড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
5. ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কতটা আশাবাদী?
চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তিনি বিশ্বাস করেন, শক্তিশালীদের প্রশ্ন করলে পরিবর্তন সম্ভব।

