শরীর ধীরে ধীরে কিছু সংকেত দিতে শুরু করে, কিন্তু আমরা অনেক সময়ই তা বুঝে উঠতে পারি না। পুরুষদের ক্ষেত্রে এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হল টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়া। এই হরমোন শুধু যৌনস্বাস্থ্যের জন্য নয়, বরং শক্তি, পেশি, মেজাজ ও সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
টেস্টোস্টেরন কমে গেলে প্রথম যে পরিবর্তনটি চোখে পড়ে, তা হলো যৌন আকাঙ্ক্ষার হ্রাস। অনেক পুরুষের মধ্যেই লিবিডো কমে যেতে পারে, এমনকি যৌন সক্ষমতা নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। এর প্রভাব ব্যক্তিগত সম্পর্কেও চাপ তৈরি করতে পারে।
এর পাশাপাশি শরীরের গঠনেও পরিবর্তন আসে। পেশির শক্তি ও ভর কমতে শুরু করে, ক্লান্তি যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। আগে যেসব কাজ সহজে করা যেত, সেগুলো করতেও বাড়তি পরিশ্রম লাগতে পারে।
হাড়ের স্বাস্থ্যও এই হরমোনের ওপর নির্ভরশীল। টেস্টোস্টেরন কম হলে হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পায়, ফলে হাড় দুর্বল হয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আরও স্পষ্ট হতে পারে।
মানসিক দিক থেকেও পরিবর্তন দেখা যায়। মেজাজের ওঠানামা, মনোযোগে ঘাটতি, অকারণ উদ্বেগ বা বিষণ্নতা অনেক সময় কম টেস্টোস্টেরনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হলে মনের ওপর তার প্রভাব পড়াই স্বাভাবিক।
এছাড়া ওজন বেড়ে যাওয়া ও শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রবণতাও বাড়তে পারে। বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ায় শক্তি কমে যায় এবং সারাদিন অবসন্ন লাগতে থাকে।
কখন সতর্ক হবেন?
দীর্ঘদিন ধরে যদি কম যৌন ইচ্ছা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া বা মেজাজে অস্বাভাবিক পরিবর্তন টের পান, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা জানা সম্ভব।
জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তনই অনেক সময় বড় সমাধান। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রোটিন, ভিটামিন ডি ও জিংকসমৃদ্ধ খাবার টেস্টোস্টেরনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
টেস্টোস্টেরন শুধুই একটি হরমোন নয়, এটি পুরুষদের স্বাভাবিক ও সক্রিয় জীবনের অন্যতম ভিত্তি। তাই শরীরের দেওয়া বার্তাকে উপেক্ষা না করে সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার প্রধান লক্ষণ কী?
উত্তর: কম যৌন ইচ্ছা, ক্লান্তি, পেশি দুর্বলতা ও মেজাজ পরিবর্তন প্রধান লক্ষণ।
প্রশ্ন ২: কোন বয়সে টেস্টোস্টেরন কমতে শুরু করে?
উত্তর: সাধারণত ৩০ বছরের পর ধীরে ধীরে মাত্রা কমতে পারে।
প্রশ্ন ৩: রক্ত পরীক্ষা ছাড়া কি এটি বোঝা যায়?
উত্তর: উপসর্গ ধারণা দেয়, তবে নিশ্চিত হতে রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন।
প্রশ্ন ৪: ওষুধ ছাড়াই কি টেস্টোস্টেরন বাড়ানো সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় উন্নতি হয়।
প্রশ্ন ৫: টেস্টোস্টেরন কমে গেলে কি মানসিক সমস্যা হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

