ভোর হতেই যেন চোখের সামনে মিলিয়ে গেল রাজধানী! ঘন কুয়াশার চাদরে রবিবার সকালে কার্যত ‘অদৃশ্য’ হয়ে পড়ে দিল্লি ও এনসিআর। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভয়াবহ দূষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাত্রায়।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সফদরজং এলাকায় দৃশ্যমানতা নেমে আসে শূন্যে। পালাম অঞ্চলেও অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ। এর জেরে দিল্লি বিমানবন্দরে একের পর এক উড়ান দেরিতে ছাড়ে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের পরে যাত্রা শুরু করে, অবতরণেও দেখা যায় বড়সড় বিলম্ব। যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে একাধিক বিমান সংস্থা।
রেলপথেও একই ছবি। রাজধানী এক্সপ্রেস, দুরন্ত এক্সপ্রেস, গরিব রথ-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন কয়েক ঘণ্টা দেরিতে চলছে। কুয়াশার কারণে সিগন্যাল দেখা না যাওয়ায় গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে ট্রেনগুলিকে, ফলে যাত্রী ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
কুয়াশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মারাত্মক দূষণ। সকাল ৭টা নাগাদ দিল্লির বাতাসের গুণগত মানের সূচক ৪৩৯-এ পৌঁছয়, যা ‘অতি ভয়ানক’ স্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন চালু করেছে গ্র্যাপ-৪ বিধি। এর আওতায় ট্রাক চলাচল ও নির্মাণকাজে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, সাময়িক বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও মাসের শেষদিকে ফের কোল্ড স্পেলের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ আপাতত পিছু ছাড়ছে না।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. দিল্লিতে কুয়াশার প্রভাব কেন এত বেশি?
শীত, উচ্চ আর্দ্রতা ও দূষণের মিলিত প্রভাবে কুয়াশা ঘন হচ্ছে।
২. কোন কোন পরিষেবা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?
বিমান ও রেল পরিষেবায় সবচেয়ে বেশি বিলম্ব হচ্ছে।
৩. গ্র্যাপ-৪ কী?
দূষণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কঠোরতম জরুরি বিধি।
৪. AQI ৪৩৯ কতটা বিপজ্জনক?
এটি ‘অতি ভয়ানক’ স্তর, স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
৫. কবে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে?
হালকা বৃষ্টির পর সাময়িক স্বস্তি মিললেও স্থায়ী উন্নতি সময়সাপেক্ষ।

