শীতকালেও শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে? ডিহাইড্রেশন এড়ানোর সহজ টিপস

Published By: Khabar India Online | Published On:

শীত মানেই আরাম, গরম জামাকাপড় আর উষ্ণ খাবার—কিন্তু এই আরামের আড়ালেই নীরবে শরীরকে ঘিরে ধরতে পারে ডিহাইড্রেশন। অনেকেই ভাবেন জলশূন্যতা শুধু গরমকালের সমস্যা, কিন্তু বাস্তবে শীতকালেও এই ঝুঁকি কম নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা বাতাস সাধারণত শুষ্ক হয় এবং ঘরের হিটার বা গরম পরিবেশ বাতাসের আর্দ্রতা আরও কমিয়ে দেয়। ফলে শ্বাস নেওয়ার সময় শরীর থেকে অজান্তেই বেশি আর্দ্রতা বেরিয়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ঠান্ডাজনিত ঘন ঘন প্রস্রাব, কম ঘাম হওয়ায় তেষ্টা না লাগা এবং জল খাওয়ার অভ্যাস কমে যাওয়া।

শীতে ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ শুরুতে খুব হালকা থাকে। শুষ্ক ঠোঁট, নিস্তেজ ত্বক, মাথাব্যথা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা গাঢ় রঙের প্রস্রাব—এসবকে অনেকেই শীতকালীন দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যান।

দিনের শুরুতে এক গ্লাস উষ্ণ জল পান করা শরীরকে ধীরে ধীরে জাগিয়ে তোলে এবং হাইড্রেশনের ছন্দ তৈরি করে। একবারে বেশি জল না খেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে পান করাই বেশি উপকারী। হাতের কাছে জলের বোতল রাখলে নিয়মিত জল খাওয়ার কথা মনে থাকে।

শীতে শুধু ঠান্ডা জলের ওপর নির্ভর না করে উষ্ণ তরলকে খাদ্যতালিকায় রাখুন। ভেষজ চা, পরিষ্কার স্যুপ, উষ্ণ লেবু- জল বা ঘরোয়া ঝোল শরীরকে আরাম দেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরলও জোগায়।

 জল বাড়ানোর আরেকটি সহজ উপায় হলো খাবারের দিকে নজর দেওয়া। মৌসুমি ফল, রান্না করা শাক-সবজি, ডাল ও স্টুতে প্রাকৃতিকভাবে জল থাকে, যা শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শীতে শক্তি ধরে রাখে।

চা ও কফি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই, তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীর থেকে তরল বের করে দিতে পারে। তাই প্রতিটি কাপ চা বা কফির সঙ্গে অতিরিক্ত এক গ্লাস জল বা হাইড্রেটিং উষ্ণ পানীয় রাখাই বুদ্ধিমানের।

সব মিলিয়ে, শীতে জলশূন্যতা এড়ানো কঠিন নয়। নিয়মিত জল পান করা, উষ্ণ তরল গ্রহণ, জল  সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং তেষ্টা লাগার অপেক্ষা না করলেই এই নীরব সমস্যাকে সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

 প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: শীতে কি সত্যিই ডিহাইড্রেশন হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে শীতকালেও ডিহাইড্রেশন হওয়া খুবই সাধারণ।

প্রশ্ন ২: শীতে তেষ্টা কম লাগে কেন?
উত্তর: ঠান্ডায় ঘাম কম হয় এবং শরীর তেষ্টার সংকেত কম দেয়, তাই জল খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়।

প্রশ্ন ৩: উষ্ণ জল কি ঠান্ডা জলের মতোই কার্যকর?
উত্তর: অবশ্যই। উষ্ণ জল ও উষ্ণ তরল শরীরকে সমানভাবে হাইড্রেট করে।

প্রশ্ন ৪: কোন খাবার শীতে হাইড্রেশনে সাহায্য করে?
উত্তর: স্যুপ, ডাল, রান্না করা শাক-সবজি ও মৌসুমি ফল হাইড্রেশনের জন্য ভালো।

প্রশ্ন ৫: দিনে কতবার জল পান করা উচিত?
উত্তর: নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়, তবে সারাদিন নিয়মিত অল্প অল্প করে জল পান করাই সবচেয়ে ভালো।