আতঙ্কের মাঝেই মিলল সামান্য স্বস্তির খবর। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রাজ্যের দুই নার্সের মধ্যে এক জনের শারীরিক অবস্থার খুবই সামান্য উন্নতি হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই নার্সের ট্র্যাকিওস্টমি করা হয়েছে। পাশাপাশি, অন্য আক্রান্ত নার্সের জ্ঞান ফিরেছে এবং তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকেও বার করা সম্ভব হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, দু’জনের কারও অবস্থার নতুন করে অবনতি হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, রাজ্যে নতুন করে নিপা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হননি। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য দাদরা থেকে বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও আনা হয়েছে।
এই দুই নার্সের চিকিৎসা চলছে বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তাঁদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল পুণেতে, সেখানকার রিপোর্টেই নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। শুরুতে দু’জনের অবস্থাই ছিল অত্যন্ত সঙ্কটজনক এবং ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা চলছিল। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে।
রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী আগেই জানিয়েছিলেন, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের তরফে অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে এবং সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।
কী ভাবে দুই নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন, কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন—তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং। জানা গিয়েছে, তাঁরা কিছু দিন আগে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় গিয়েছিলেন। সেই সফরের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪৮ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে।
এ দিকে, বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে এক জন নার্স ও এক চিকিৎসককে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, যাঁরা আক্রান্ত নার্সদের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে সন্দেহ। স্বাস্থ্য ভবনের বিশেষ দল গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত নার্সদের বর্তমান অবস্থা কেমন?
উত্তর: এক জনের সামান্য উন্নতি হয়েছে, অন্য জন ভেন্টিলেশন থেকে বেরিয়েছেন।
প্রশ্ন ২: রাজ্যে নতুন করে নিপা আক্রান্তের খবর আছে কি?
উত্তর: না, নতুন কোনও সংক্রমণের খবর নেই।
প্রশ্ন ৩: নিপা ভাইরাস কী ভাবে ছড়ায়?
উত্তর: মূলত বাদুড়, সংক্রমিত পশু বা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস থেকে ছড়াতে পারে।
প্রশ্ন ৪: আক্রান্তদের চিকিৎসায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে।
প্রশ্ন ৫: সাধারণ মানুষের কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?
উত্তর: জ্বর বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং আতঙ্ক না ছড়ানোই সবচেয়ে জরুরি।

