হঠাৎ করেই আইপ্যাক-কাণ্ডে নতুন মোড়। কলকাতা হাই কোর্টে শুনানির একদিন পরেই বিষয়টি পৌঁছে গেল দেশের শীর্ষ আদালতে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলাটির শুনানি হবে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ। বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে। বিষয়টির গুরুত্ব আঁচ করেই আগেই রাজ্য সরকার ক্যাভিয়েট দাখিল করে রেখেছিল।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্তে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কিছু নথি নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইডি এবং তৃণমূল কংগ্রেস আলাদা আলাদা ভাবে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করে। ইডির অভিযোগ ছিল, সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে নথি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, ভোটের আগে ইডির অভিযান ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দলের সংবেদনশীল নথি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে দুই মামলার শুনানি হয়। আদালত তৃণমূলের মামলার নিষ্পত্তি করলেও, ইডির মামলাটি মুলতুবি রাখে। কারণ, একই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইডির মামলা দায়ের হয়েছে। শীর্ষ আদালতের অগ্রগতি দেখেই হাই কোর্ট পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ইডির তরফে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছিল। তার পরেই সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার শুনানির দিনক্ষণ ও বেঞ্চ চূড়ান্ত করল। ফলে আইপ্যাক-কাণ্ডে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে উত্তেজনা আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি কবে?
উত্তর: বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ শুনানি হবে।
প্রশ্ন ২: কোন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করবে?
উত্তর: বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চ।
প্রশ্ন ৩: কেন হাই কোর্টে ইডির মামলা মুলতুবি রাখা হয়েছে?
উত্তর: একই বিষয় সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় হাই কোর্ট মামলাটি স্থগিত রেখেছে।
প্রশ্ন ৪: রাজ্য সরকার কেন ক্যাভিয়েট দাখিল করেছিল?
উত্তর: যাতে রাজ্যের বক্তব্য না শুনে একতরফা শুনানি না হয়।
প্রশ্ন ৫: আইপ্যাক তল্লাশি নিয়ে মূল বিতর্ক কী?
উত্তর: তল্লাশির সময় নথি নেওয়া এবং অভিযানের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই মূল বিতর্ক।

