শীতেও ডেঙ্গি রুখতে মাঠে কলকাতা পুরসভা, শুরু জোরদার অভিযান

Published By: Khabar India Online | Published On:

শীতকাল এলেই ডেঙ্গির ভয় কেটে যায়—এই ধারণা ভাঙতেই আগেভাগে নামছে কলকাতা পুরসভা। ২০২৫ সালে শহরে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে, তবে পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য আগাম ও ধারাবাহিক পদক্ষেপে জোর দিচ্ছে পুর প্রশাসন।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকেই ডেঙ্গি প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। জানুয়ারি মাস থেকেই মশাবাহিত রোগ দমনে মাঠে নামবেন পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মী ও ভেক্টর কন্ট্রোল টিম। কর্মসূচির সূচনায় একটি কেন্দ্রীয় সচেতনতা মিছিল আয়োজন করা হবে।

শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একযোগে প্রচার অভিযান, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জমা জল, খোলা ট্যাঙ্ক, পরিত্যক্ত পাত্র ও নির্মাণস্থলে জল জমার জায়গাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।

পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কলকাতায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১,৭৩৮। ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১,৩১৬। সংখ্যায় কিছুটা বৃদ্ধি হলেও স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৩ সালে শহরে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩,৯২৬, যা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছিল। পরবর্তী দু’বছরে ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ফলে সংক্রমণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন পুরসভার মূল লক্ষ্য। শীত ও আগামী বর্ষা—দু’টি মরসুমেই ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত কলকাতা পুরসভা।

প্রশ্ন ও উত্তর 

প্রশ্ন 1: শীতকালে কি ডেঙ্গির ঝুঁকি থাকে?
উত্তর: হ্যাঁ, শীতেও জমা জল থাকলে ডেঙ্গির মশা বংশবিস্তার করতে পারে।

প্রশ্ন 2: কলকাতা পুরসভার অভিযান কবে থেকে শুরু হচ্ছে?
উত্তর: আগামী বৃহস্পতিবার থেকেই ডেঙ্গি প্রতিরোধ অভিযান শুরু হবে।

প্রশ্ন 3: কোন কোন জায়গায় বেশি নজর দেওয়া হবে?
উত্তর: জমা জল, খোলা ট্যাঙ্ক, নির্মাণস্থল ও পরিত্যক্ত পাত্রে বিশেষ নজরদারি চলবে।

প্রশ্ন 4: সাধারণ মানুষ কীভাবে সহযোগিতা করতে পারেন?
উত্তর: বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া ও পুরসভার নির্দেশ মানলেই বড় সাহায্য হবে।

প্রশ্ন 5: ২০২৫ সালে ডেঙ্গি পরিস্থিতি কতটা গুরুতর?
উত্তর: আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, তবে তা এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।