রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে দিয়ে বালিশের পাশে রেখে দেওয়া—এই অভ্যাসটি আমাদের অনেকেরই অজান্তে রুটিনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু জানেন কি, এই ছোট্ট অসতর্কতাই ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার সময় সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গাগুলোর একটি হলো শোবার ঘর, বিশেষ করে বালিশের পাশ বা বালিশের নিচে। আধুনিক ফোনে তাপ নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি থাকলেও, নরম বালিশ বা কাপড়ের ওপর রাখলে ফোনের তাপ বাইরে বেরোতে পারে না। তার ওপর যদি ফোন চার্জে লাগানো থাকে, তাহলে ভেতরের তাপ দ্রুত বেড়ে যায়।
এই অতিরিক্ত তাপ শুধু ফোনের ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয় না, বরং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে চার্জার বা আশপাশের জিনিসে আগুন ধরার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য সব সময় সমতল ও শক্ত জায়গা বেছে নেওয়া উচিত। যেমন—টেবিল, কাউন্টার বা এমন কোনো পৃষ্ঠ, যেখানে চারপাশে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং তাপ সহজে বেরিয়ে যেতে পারে।
শুধু নিরাপত্তাই নয়, শোবার ঘরে ফোন কাছাকাছি থাকলে ঘুমের মানও খারাপ হয়। ফোনের নোটিফিকেশন, অ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ার টান মস্তিষ্ককে জেগে থাকতে উৎসাহিত করে। ফলে ঘুম গভীর হয় না, শরীরও ঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখা ভালো। এতে ঘুম দ্রুত আসে এবং শরীর ও মন দুটোই সুস্থ থাকে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন 1: বালিশের পাশে ফোন চার্জ দেওয়া কেন বিপজ্জনক?
উত্তর: এতে ফোনের তাপ বেরোতে না পেরে অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়ে।
প্রশ্ন 2: ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা কোনটি?
উত্তর: সমতল টেবিল বা শক্ত পৃষ্ঠ, যেখানে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
প্রশ্ন 3: সারারাত ফোন চার্জে রাখা কি ব্যাটারির ক্ষতি করে?
উত্তর: হ্যাঁ, দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির আয়ু কমে যেতে পারে।
প্রশ্ন 4: শোবার ঘরে ফোন রাখলে ঘুমের কী ক্ষতি হয়?
উত্তর: নীল আলো ও নোটিফিকেশন ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করে।
প্রশ্ন 5: ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার কতক্ষণ আগে বন্ধ করা উচিত?
উত্তর: অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন ও অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখা ভালো।

