শীত এলেই বাজার ভরে ওঠে টাটকা সবুজ মটরশুঁটিতে, কিন্তু আপনি কি জানেন এই ছোট্ট শস্যে লুকিয়ে রয়েছে বড় স্বাস্থ্য রহস্য? মটরশুঁটির উপকারিতা শুধু স্বাদেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শরীরের ভেতর থেকে সুস্থ রাখতেও এর ভূমিকা অসাধারণ।
মটরশুঁটি আসলে সবজি নয়, এটি শিম জাতীয় খাবার। প্রোটিন, ফাইবার ও নানা ভিটামিনে ভরপুর এই খাবার শীতের ডায়েটে রাখলে শরীর পায় বাড়তি শক্তি। সেদ্ধ বা ভাপে রান্না করা মটরশুঁটি পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে ধরে রাখে।
শরীরকে শক্তিশালী করে
এক কাপ মটরশুঁটিতে প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভালো উৎস, যা পেশি গঠন, টিস্যু মেরামত এবং দৈনন্দিন শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
মটরশুঁটিতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। নিয়মিত খেলে অন্ত্র পরিষ্কার থাকে।
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সহায়ক
প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় মটরশুঁটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে অকারণে বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে।
প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল শরীরের ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে, যা হৃদরোগ ও দীর্ঘস্থায়ী অসুখের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
চোখ ও ত্বকের সুরক্ষা দেয়
মটরশুঁটিতে থাকা লুটেইন ও জিএক্সানথিন চোখকে ক্ষতিকর নীল আলো থেকে রক্ষা করে এবং ত্বক সুস্থ রাখে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: প্রতিদিন মটরশুঁটি খাওয়া কি নিরাপদ?
উত্তর: হ্যাঁ, পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিন খাওয়া নিরাপদ ও উপকারী।
প্রশ্ন ২: কাঁচা মটরশুঁটি খাওয়া যায় কি?
উত্তর: যায়, তবে হালকা সেদ্ধ বা ভাপে রান্না করলে হজম সহজ হয়।
প্রশ্ন ৩: মটরশুঁটি কি ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেন?
উত্তর: কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স হওয়ায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৪: মটরশুঁটি কি ওজন বাড়ায়?
উত্তর: না, বরং স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৫: কোন রান্নায় মটরশুঁটির পুষ্টি বেশি থাকে?
উত্তর: ভাপানো বা সেদ্ধ করলে পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালো থাকে।

