একটি ভরণপোষণ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল Delhi High Court। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, অন্তর্বর্তিকালীন ভরণপোষণ নির্ধারণের সময় কোনও প্রমাণ ছাড়া স্ত্রীকে উপার্জনকারী বা উপার্জনক্ষম বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
সোমবার বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মার বেঞ্চে এই মন্তব্য উঠে আসে। একটি পারিবারিক আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এক মহিলা হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন। আগে পারিবারিক আদালত স্বামীকে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা অন্তর্বর্তিকালীন ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
স্বামীর দাবি ছিল, তাঁর স্ত্রী একটি নার্সারি স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করতেন। তবে তিনি স্ত্রীর আয়ের কোনও লিখিত প্রমাণ আদালতে পেশ করতে পারেননি। অন্য দিকে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই মহিলা একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ফলে কেবল দাবি করলেই স্ত্রীকে উপার্জনক্ষম বলা যায় না বলে স্পষ্ট জানানো হয়।
আদালত আরও জানায়, ২০২১ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। স্ত্রীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁকে নির্যাতন করা হত এবং ২০২২ সালে তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভরণপোষণের পরিমাণ বাড়ানোর আবেদনে মহিলা দাবি করেন, তাঁর স্বামী স্নাতক পাশ এবং একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি, টিউশন ও মুদির দোকান থেকে অতিরিক্ত আয়ও রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে স্বামী তাঁর সম্পূর্ণ ব্যাঙ্ক নথি জমা না দেওয়ায় আদালতের কাছে তাঁর প্রকৃত আয় স্পষ্ট হয়নি।
এর পর আদালত জানায়, স্বামীর আয় ন্যূনতম মজুরির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। সেই অনুযায়ী স্ত্রীর অন্তর্বর্তিকালীন ভরণপোষণ বাড়িয়ে মাসিক ৩,৫০০ টাকা করা হয়েছে। আগের সমস্ত বকেয়া তিন মাসের মধ্যে মেটানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: অন্তর্বর্তিকালীন ভরণপোষণ কী?
উত্তর: মামলা চলাকালীন স্ত্রীর খরচ চালানোর জন্য দেওয়া অস্থায়ী ভরণপোষণ।
প্রশ্ন ২: স্ত্রী কাজ করতে পারেন—এই যুক্তি কি গ্রহণযোগ্য?
উত্তর: উপযুক্ত প্রমাণ না থাকলে এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রশ্ন ৩: আদালত কীভাবে স্বামীর আয় নির্ধারণ করল?
উত্তর: ন্যূনতম মজুরি আইনের ভিত্তিতে আয় ধরা হয়েছে।
প্রশ্ন ৪: ভরণপোষণের অঙ্ক কত করা হয়েছে?
উত্তর: মাসিক ৩,৫০০ টাকা।
প্রশ্ন ৫: বকেয়া টাকা কবে দিতে হবে?
উত্তর: আগামী তিন মাসের মধ্যে সমস্ত বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।

