হঠাৎ করেই বড় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ডাকঘরের স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে যুক্ত এজেন্টদের কমিশন বাড়ানোর দাবি এবার কার্যত খারিজ। দীর্ঘদিন ধরেই এজেন্টদের তরফে দাবি উঠছিল, কমিশন না বাড়ালে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়ের দিকে উৎসাহিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
দেশজুড়ে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার কমে যাওয়ায় চিন্তায় অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় সরকার। সেই কারণেই গত প্রায় দু’বছর ধরে পিপিএফ, রেকারিং ডিপোজিট, মান্থলি ইনকাম স্কিম (MIS), এনএসসি, কিষাণ বিকাশপত্রের মতো স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার কমানো হয়নি। তবু এজেন্ট কমিশনের বিষয়ে কোনও রকম ছাড় দিতে রাজি নয় কেন্দ্র।
বর্তমানে দেশের স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে দু’টি এজেন্সি ব্যবস্থা চালু রয়েছে—মহিলা প্রধান ক্ষেত্রীয় সঞ্চয় যোজনা এবং স্ট্যান্ডার্ডাইজড এজেন্সি সিস্টেম। এই ব্যবস্থার আওতায় প্রায় ২ লক্ষ ৬৬ হাজার এজেন্ট কাজ করছেন। ২০১১ সালের আগে যেখানে কমিশনের হার ছিল এক থেকে চার শতাংশ, পরে তা কমিয়ে সর্বনিম্ন ০.৫ শতাংশ করা হয়।
বর্তমানে প্রবীণ নাগরিক সঞ্চয় প্রকল্প, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা ও পিপিএফে কোনও কমিশন নেই। এজেন্টদের দাবি ছিল, অন্তত সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে কমিশন চালু করা হোক। কিন্তু অর্থমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন করে কোনও কমিশন প্রথা ফেরানো হবে না।
সরকারের যুক্তি, ভবিষ্যতে ডিজিটাল লেনদেনের উপরই জোর দেওয়া হবে। গ্রাহকরা যেন নিজেরাই অনলাইনে সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেন, সেটাই কেন্দ্রের লক্ষ্য। তবে এজেন্টদের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত লক্ষাধিক মানুষের রোজগারের উপর প্রভাব ফেলবে এবং সঞ্চয় বৃদ্ধির লক্ষ্যও ব্যাহত হতে পারে।
প্রশ্ন ও উত্তর
Q1. ডাকঘর এজেন্টদের কমিশন কি বাড়ানো হচ্ছে?
উত্তর: না, কেন্দ্রীয় সরকার কমিশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি।
Q2. কোন কোন প্রকল্পে এখন কমিশন নেই?
উত্তর: পিপিএফ, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা ও সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে কমিশন নেই।
Q3. কেন কমিশন ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চায় না সরকার?
উত্তর: সরকার ডিজিটাল লেনদেন ও অনলাইন বিনিয়োগে জোর দিতে চাইছে।
Q4. বর্তমানে কতজন ডাকঘর এজেন্ট কাজ করছেন?
উত্তর: প্রায় ২ লক্ষ ৬৬ হাজার এজেন্ট এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
Q5. কমিশন না বাড়লে সঞ্চয়ে কী প্রভাব পড়তে পারে?
উত্তর: এজেন্টদের মতে, এতে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করা কঠিন হবে।

