ইতিহাস কখনো কখনো এমন গল্প লেখে, যা রূপকথাকেও হার মানায়। জলপাইগুড়ির এক নিভৃত পাড়ায় জন্ম নেওয়া এক কন্যাশিশু যে একদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা কেউ ভাবেনি।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে জন্ম নেন খালেদা জিয়া। সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা এই মেয়েটির শৈশব কেটেছে সীমান্ত এলাকার শান্ত পরিবেশে। দেশভাগের পর তাঁর পরিবার চলে আসে পূর্ব পাকিস্তানে, যা তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়।
ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে দীর্ঘদিন তিনি ছিলেন এক সাধারণ গৃহিণী। রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ কোনো সম্পর্ক তখন তাঁর ছিল না। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে তাঁর জীবন নতুন মোড় নেয়।
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে তৈরি হয় এক শূন্যতা। সেই সংকটময় সময়ে নীরব গৃহিণী খালেদা জিয়া সামনে এসে নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন রাজপথের সাহসী কণ্ঠ।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। কারাবরণ ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি আপস করেননি। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ সালে তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংসদীয় ব্যবস্থা কার্যকর এবং শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী নারী নেত্রীদের স্থান দেয়।
জলপাইগুড়ির এক সাধারণ মেয়ের এই যাত্রা প্রমাণ করে, দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব থাকলে ইতিহাসে স্থান করে নেওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: খালেদা জিয়ার জন্ম কোথায়?
উত্তর: তাঁর জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি শহরে।
প্রশ্ন ২: তিনি কবে প্রথম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন?
উত্তর: ১৯৯১ সালে তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
প্রশ্ন ৩: তিনি মোট কতবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?
উত্তর: তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
প্রশ্ন ৪: রাজনীতিতে আসার আগে তিনি কী করতেন?
উত্তর: তিনি দীর্ঘদিন গৃহিণী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
প্রশ্ন ৫: তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অবদান কী?
উত্তর: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সংসদীয় ব্যবস্থা কার্যকর করা।

