শীত এলেই ত্বক যেন নিজের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারাতে শুরু করে—এই অনুভূতিটা অনেকেরই চেনা। ঠান্ডা হাওয়া, কম আর্দ্রতা আর রুক্ষ আবহাওয়ার প্রভাবে ত্বক হয়ে ওঠে শুষ্ক ও নিষ্প্রভ। ঠিক এই সময়েই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার ত্বকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে। শীতকালে সবচেয়ে আলোচিত দুই ভিটামিন সি উৎস হলো আমলকী ও কমলা। কিন্তু ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে আসলে কোনটি বেশি উপকারী?
আমলকীর শক্তি কোথায়
আমলকীকে শীতকালীন সুপারফুড বলা হয় কারণ এতে কমলার তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে। এর শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষে জমে থাকা ক্ষতি কমায় এবং কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। ফলে ত্বক হয় আরও দৃঢ় ও প্রাণবন্ত।
শীতে আমলকী কেন উপকারী
আমলকী ত্বকের ভেতর থেকে কাজ করে। এটি বার্ধক্যের আগাম লক্ষণ কমায়, রঞ্জকতা হ্রাস করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। প্রদাহ-বিরোধী গুণের কারণে সংবেদনশীল বা ব্রণ-প্রবণ ত্বকের জন্যও এটি নিরাপদ।
কমলার সতেজ উজ্জ্বলতা
কমলা ভিটামিন সি-এর পাশাপাশি উচ্চ জলীয় উপাদানের জন্য পরিচিত। শীতকালে যখন ত্বক জলশূন্য হয়ে পড়ে, তখন কমলা ভেতর থেকে হাইড্রেশন জোগায়। এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বককে নরম ও তাৎক্ষণিকভাবে উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে।
শীতে কমলা কেন ভালো
কমলা ত্বকের শুষ্কতা কমায়, আলতো এক্সফোলিয়েশনের মাধ্যমে মৃত কোষ দূর করে এবং ত্বকে তাজা আভা আনে। যারা দ্রুত উজ্জ্বলতা চান, তাদের জন্য এটি কার্যকর।
শেষ কথা
আমলকী ও কমলা—দুটিরই উপকারিতা আলাদা। আমলকী দেয় দীর্ঘমেয়াদী উজ্জ্বলতা ও মেরামত, আর কমলা দেয় তাৎক্ষণিক সতেজতা ও হাইড্রেশন। শীতে ত্বকের সেরা যত্ন পেতে দুটিকেই খাদ্যতালিকায় রাখাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. শীতে প্রতিদিন আমলকী খাওয়া কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিন খাওয়া নিরাপদ ও উপকারী।
২. কমলা কি শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালো?
হ্যাঁ, কমলার জলীয় উপাদান শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।
৩. কোনটি বেশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ?
আমলকীতে কমলার তুলনায় অনেক বেশি ভিটামিন সি থাকে।
৪. ব্রণ-প্রবণ ত্বকের জন্য কোনটি ভালো?
আমলকী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, তাই বেশি উপকারী।
৫. দুটো একসঙ্গে খেলে কি সমস্যা হয়?
না, বরং একসঙ্গে খেলে ত্বকের জন্য বেশি উপকার পাওয়া যায়।

