শীত এলেই হাঁচি-কাশি, সর্দি আর গলার অস্বস্তি যেন নিত্যসঙ্গী। কাজের এনার্জিও অনেক সময় কমে যায়। কিন্তু জানেন কি, এই সমস্যার সহজ সমাধান লুকিয়ে আছে আপনার চায়ের কাপেই? চায়ের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস শীতকালে শরীরকে রাখতে পারে অনেকটাই সুস্থ।
গুড় শুধু স্বাদের জন্য নয়, এটি প্রাকৃতিকভাবে শরীরের জন্য উপকারী। চিনির তুলনায় গুড় অনেক বেশি পুষ্টিগুণে ভরপুর। বিশেষ করে চায়ের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খেলে তার উপকারিতা আরও ভালোভাবে কাজ করে।
ইমিউনিটি বাড়ায়:
গুড়ে থাকা আয়রন, জিঙ্ক ও প্রয়োজনীয় মিনারেল শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত চায়ের সঙ্গে গুড় খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা কমে এবং শরীরে এনার্জি বজায় থাকে।
হজমে সাহায্য করে:
শীতে ভারী খাবার, বিয়েবাড়ি বা পিকনিকের ফলে হজমের গোলমাল বাড়ে। গুড় হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক। দিনে ১–২ কাপ চায়ে গুড় মেশালে পেট অনেকটাই হালকা থাকে।
শ্বাসনালী সুস্থ রাখে:
ঠাণ্ডা ও দূষণের প্রভাবে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। গুড় ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং শ্বাসনালিকে সুস্থ রাখে, যা শীতে খুবই দরকারি।
অন্যান্য উপকারিতা:
গুড় হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে, রক্তাল্পতার ঝুঁকি কমায় এবং লিভার থেকে টক্সিন বের করতে সহায়তা করে। এর ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়ে।
চায়েতে গুড় মেশানোর সঠিক নিয়ম:
চা ফোটানোর সময় গুড় দেবেন না। চা পাতা, আদা, এলাচ ফুটিয়ে ছেঁকে নেওয়ার পর কাপে ১ চা চামচ গুড় বা গুড়ের গুঁড়ো মেশান। গুড় দেওয়া চায়ে দুধ না দেওয়াই ভালো।
শীতে সহজভাবে সুস্থ থাকতে চাইলে আজ থেকেই চায়ের সঙ্গে গুড় খাওয়ার অভ্যাস করুন। স্বাদও ভালো, উপকারও অনেক।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: প্রতিদিন চায়ের সঙ্গে গুড় খাওয়া কি নিরাপদ?
উত্তর: হ্যাঁ, পরিমাণে খেলে প্রতিদিন খাওয়া নিরাপদ ও উপকারী।
প্রশ্ন ২: চিনি বাদ দিয়ে গুড় ব্যবহার করলে কী লাভ?
উত্তর: গুড় প্রাকৃতিক এবং এতে বেশি পুষ্টিগুণ থাকে, যা চিনি দেয় না।
প্রশ্ন ৩: দিনে কতবার গুড় মেশানো চা খাওয়া উচিত?
উত্তর: দিনে ১–২ কাপ যথেষ্ট।
প্রশ্ন ৪: দুধ চায়ে গুড় মেশানো যাবে কি?
উত্তর: না, গুড় মেশানো চায়ে দুধ না দেওয়াই ভালো।
প্রশ্ন ৫: শীতে শিশুদের জন্য কি এটি উপকারী?
উত্তর: হ্যাঁ, অল্প পরিমাণে দিলে শিশুদের ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে।

