হঠাৎ করেই বদলে যাচ্ছে সীমান্তের চেনা ছবি। কাঁটাতারের ওপারে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে (Border security) নজরদারি আরও কড়া করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নিরাপত্তা বাহিনী।
বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, ভারতীয় সেনা ও বিএসএফ মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় অস্থায়ী সেনা তাঁবু তৈরি করা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আগেই দ্রুত মোকাবিলা।
এই স্পর্শকাতর এলাকাগুলি চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেনা ও বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তারই পরবর্তী ধাপে শুক্রবার থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেছেন সেনার ইস্টার্ন কমান্ড প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আরসি তিওয়ারি।
সূত্র জানাচ্ছে, ত্রিপুরা, অসম, মেঘালয়, মিজোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে ৩০টিরও বেশি স্পর্শকাতর এলাকায় অস্থায়ী সেনা তাঁবু বসতে পারে। এই তাঁবুগুলি থেকে অত্যাধুনিক ড্রোন, নজরদারি সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।
উত্তরবঙ্গে আপাতত ১১টি এলাকাকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে কোচবিহারে দু’টি, উত্তর দিনাজপুর ও মালদায় একটি করে সেনা তাঁবু তৈরির প্রস্তুতি চলছে। দূরত্ব ও ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী প্রতিটি তাঁবুতে জওয়ানের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
শুধু বিএসএফ নয়, সীমান্ত সুরক্ষায় রাজ্য পুলিশের সঙ্গেও যৌথ মহড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই অসম পুলিশের সঙ্গে যৌথ মহড়া শুরু করেছে আসাম রাইফেলস। সেনা আধিকারিকদের মতে, হঠাৎ পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত সমন্বয়ই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সীমান্ত এলাকায় সেনা ও বিএসএফের যৌথ টহলদারির পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হচ্ছে। নির্বাচিত জওয়ানদের নিয়ে বিশেষ দল গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।
1. কেন সীমান্তে সেনা তাঁবু বসানো হচ্ছে?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় নজরদারি জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত।
2. কোন কোন রাজ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?
পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অসম, মেঘালয় ও মিজোরামে।
3. এই তাঁবুগুলিতে কী ধরনের প্রযুক্তি থাকবে?
ড্রোন, নজরদারি যন্ত্র ও প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র।
4. বিএসএফের ভূমিকা কী থাকবে?
বিএসএফ ও সেনা যৌথভাবে টহল ও নজরদারি চালাবে।
5. কতদিন এই ব্যবস্থা চলবে?
বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত।

