খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে বড় নির্দেশ, তদন্ত ছাড়া বাদ নয় নাম

Published By: Khabar India Online | Published On:

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শুনানির প্রস্তুতি। আর এই প্রক্রিয়ার মাঝেই ভোটারদের জন্য এল কিছুটা স্বস্তির খবর। প্রথম শুনানিতেই আর নাম বাদ যাবে না—এমনই স্পষ্ট নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, শুনানিতে জমা পড়া নথি নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম সঙ্গে সঙ্গে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। নিজেকে ভারতীয় ভোটার হিসেবে প্রমাণ করার জন্য ফের একটি সুযোগ দেওয়া হবে। এই মর্মে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক তথা ডিইওদের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

খসড়া তালিকা প্রকাশের পর যেসব ভোটারের নিজের বা আত্মীয়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই এবং সেই অনুযায়ী ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন, তাঁদের শুনানির নোটিশ পাঠানো হবে। পাশাপাশি, যেসব ক্ষেত্রে আত্মীয় সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কমিশনের সংশয় রয়েছে, সেই ভোটারদেরও শুনানিতে ডাকা হবে।

নোটিশ পাওয়ার পর কমিশন নির্ধারিত বৈধ নথি পেশ করতে হবে ভোটারদের। সেই নথি সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৬ ও ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য কি না, তা যাচাই করবেন ইআরওরা। নথি সন্দেহজনক হলে ইআরওদের স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত করতে হবে, প্রয়োজনে প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলতে হবে।

তদন্তের পরেও সন্দেহ কাটেনি? সেক্ষেত্রেও সরাসরি নাম বাদ যাবে না। সংশ্লিষ্ট ভোটারকে পাঠানো হবে দ্বিতীয় নোটিশ। সেখানে জানতে চাওয়া হবে, কেন তাঁর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র দ্বিতীয় নোটিশের পরেও নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলেই নাম বাদ পড়বে।

কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কোনও যোগ্য ভোটার যাতে ভুলবশত বাদ না যান, সেই কারণেই এই সতর্ক ব্যবস্থা। বিহার এসআইআর থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির কথা মাথায় রেখেই এই প্রক্রিয়ায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে কমিশন।

এদিকে, আঞ্চলিক ভাষায় শুনানির নোটিশ ছাপার কাজ শেষ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিলি শুরু করা যায়নি। শুক্রবার থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্য মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তর স্থানান্তরের কাজও শুরু হয়েছে, যার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: প্রথম শুনানিতেই কি ভোটারের নাম বাদ পড়বে?
উত্তর: না, প্রথম শুনানিতে নাম বাদ দেওয়া যাবে না।

প্রশ্ন ২: কোন ক্ষেত্রে দ্বিতীয় নোটিশ পাঠানো হবে?
উত্তর: তদন্তের পরেও নথি নিয়ে সন্দেহ থাকলে দ্বিতীয় নোটিশ দেওয়া হবে।

প্রশ্ন ৩: ইআরওরা কীভাবে নথি যাচাই করবেন?
উত্তর: সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের নির্দিষ্ট ধারার ভিত্তিতে।

প্রশ্ন ৪: দ্বিতীয় নোটিশের পর কী হতে পারে?
উত্তর: তখনও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাবে।

প্রশ্ন ৫: এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: কোনও যোগ্য ভোটারকে যাতে অন্যায়ভাবে বাদ না দেওয়া হয়।