ডলারের সামনে ফের বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় টাকা। মঙ্গলবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দামে দেখা গেল ঐতিহাসিক পতন, যা বাজারে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া কারণ মিলেই এই চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দিনের লেনদেনের এক পর্যায়ে ডলারের বিপরীতে টাকা নেমে যায় ৯১.০৭৫ স্তরে। দিনের শেষে প্রায় ০.৩ শতাংশ পতনের সঙ্গে টাকা বন্ধ হয় ৯১.০২৭৫-এ। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ডলারের তুলনায় টাকার দর কমেছে ৬ শতাংশের বেশি, ফলে ২০২৫ সালে অন্যতম দুর্বল মুদ্রার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের টানা অর্থ প্রত্যাহার, কর্পোরেট ও আমদানিকারকদের হেজিং চাহিদা এবং শক্তিশালী ডলারের দাপট টাকার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক করে তুলেছে।
নভেম্বরের বাণিজ্য পরিসংখ্যান কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও বাজারে তার প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়। উচ্চ শুল্ক সত্ত্বেও ভারতের রপ্তানি বেড়েছে, যা ভারতের অবস্থান মজবুত করেছে ঠিকই, কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের আধিপত্য টাকার ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন করে তুলেছে।
সাধারণত এই ধরনের পরিস্থিতিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া হস্তক্ষেপ করলেও, এবার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে তুলনামূলকভাবে নীরব ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে চলতি বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ তুলে নিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে নিফটি ৫০ সূচকেও।
সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য, বৈশ্বিক ঝুঁকির প্রবণতা এবং মূলধন প্রবাহের গতিবিধির ওপর। এগুলোর ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে টাকার দিক কোন পথে যাবে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: ডলারের বিপরীতে টাকা এতটা দুর্বল কেন হলো?
উত্তর: বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার, শক্তিশালী ডলার এবং বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এর মূল কারণ।
প্রশ্ন ২: ২০২৫ সালে কি টাকা সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা?
উত্তর: চলতি বছরে ৬ শতাংশের বেশি পতনের কারণে টাকা অন্যতম দুর্বল মুদ্রা হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন ৩: RBI কেন বাজারে হস্তক্ষেপ করছে না?
উত্তর: পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আপাতত কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নীরব অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশ্ন ৪: বাণিজ্য পরিসংখ্যান কি টাকার জন্য ইতিবাচক নয়?
উত্তর: রপ্তানি বাড়লেও বৈশ্বিক চাপের কারণে তার প্রভাব এখনও টাকায় পড়েনি।
প্রশ্ন ৫: বিনিয়োগকারীরা এখন কী দেখছেন?
উত্তর: মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য, বৈশ্বিক ঝুঁকি এবং বিদেশি মূলধন প্রবাহের গতিপ্রকৃতি।

