শীতের হিমেল সকালে দেহকে উষ্ণ রাখতে ও শক্তির জোগান দিতে কিছু খাবার প্রকৃতির উপহার হয়ে আসে। শুকনো ফল ও বাদাম তার অন্যতম—কিন্তু পরিমিতির বাইরে গেলেই বিপদ ডেকে আনতে পারে।
শীতকালে শক্তি ও পুষ্টি ধরে রাখতে পিচ, কিসমিস, ডুমুর, বরইসহ নানা রকম শুকনো ফল দেহে দ্রুত তৃপ্তি আনে। আমন্ড, কাজু ও আখরোটের মতো বাদামও দেয় স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিন। যদিও অনেকেই অল্প পরিমাণের বদলে বেশি খাওয়ার ভুল করেন, যা গ্লুকোজ ও এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আমন্ড ও আখরোট নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরল কমে এবং প্রোটিন বি ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও উন্নতি হয়। তবে কাজু ও আমন্ডের মতো বাদামে অক্সালেট বেশি থাকায় অতিরিক্ত খেলে কিডনিতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দইয়ের মতো ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণে খেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
বেশিরভাগ বাদামই সাধারণভাবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সপ্তাহে চার থেকে ছয় সার্ভিং লবণবিহীন বাদাম ভালো মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ করে আমন্ড, হ্যাজেলনাট, ম্যাকাডেমিয়া নাট এবং আখরোট হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ব্রাজিল নাট থাইরয়েডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেলেনিয়াম সরবরাহ করে—তবে নিয়মিত খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
উচ্চ তাপে বাদাম ভাজা অনুচিত, কারণ এতে অসম্পৃক্ত চর্বি দ্রুত নষ্ট হয়। বাদাম সংরক্ষণের জন্য ঠান্ডা স্থানে রাখা এবং ভাজতে হলে কম তাপে ভাজা উচিত।
সর্বোপরি, শুকনো ফল ও বাদাম শীতের পুষ্টিগুণ বাড়ায় ঠিকই, তবে পরিমাণই এখানে মূল চাবিকাঠি। অতিরিক্ত সেবনে উপকারের বদলে ক্ষতি ফিরতে পারে, তাই সচেতনতা জরুরি।
1. প্রতিদিন কতটুকু শুকনো ফল খাওয়া নিরাপদ?
অল্প পরিমাণে—প্রায় এক মুঠো শুকনো ফল প্রতিদিন নিরাপদ ধরা হয়।
2. কোন বাদাম কোলেস্টেরল কমাতে বেশি সাহায্য করে?
আখরোট ও আমন্ড কোলেস্টেরল কমাতে সবচেয়ে কার্যকর।
3. চিনাবাদাম কি বাদামের দলে পড়ে?
না, চিনাবাদাম ডালজাতীয় খাদ্য।
4. বাদাম ভাজার সময় কী সতর্কতা প্রয়োজন?
উচ্চ তাপ নয়—কম তাপে অল্প সময়ে ভাজা উচিত।
5. কিডনি পাথরের ঝুঁকি কেন বাড়ে?
আমন্ড ও কাজুর মতো বাদামে অক্সালেট বেশি থাকায় অতিরিক্ত খেলে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর তৈরি হতে পারে।

