রাতে কম ঘুম পুরুষের শরীরে কী ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন নতুন করে সামনে এসেছে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ধীরে ধীরে নেমে যেতে পারে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা, আর কমে যেতে পারে শুক্রাণুর গুণগত মান—ফলে বাড়তে পারে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি।
যারা নিয়মিত মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুমিয়ে দিন কাটান, তাদের শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে। শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা বায়োলজিকাল ক্লক ঠিকমতো কাজ না করলে টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ কমে যায়, যা পুরুষ প্রজনন ক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা বলছে, কম ঘুম পুরুষের টেস্টোস্টেরন দ্রুত কমিয়ে দেয়। এর ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মানেও প্রভাব পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ্যত্বের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। শুধু তাই নয়, কম ঘুম বাড়িয়ে দেয় কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন, যা টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ আরও কমিয়ে দেয়।
কম ঘুমের ফলে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদ্রোগ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। তাই প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম রাখা শরীরের জন্য অপরিহার্য।
ঘুমের মান বাড়াতে মেডিটেশন, ব্রিদিং এক্সারসাইজ, মোবাইল স্ক্রিন কম ব্যবহার ও নিয়মিত রুটিন অনুসরণ অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। সময়মতো ঘুম হলেই হরমোন আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং শরীর ফিরে পায় তার প্রাকৃতিক রিদম।
রাতে কত ঘণ্টা ঘুম সবচেয়ে উপকারী?
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য আদর্শ।কম ঘুম কি সত্যিই শুক্রাণুর মান কমায়?
হ্যাঁ, কম ঘুম টেস্টোস্টেরন কমিয়ে শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা প্রভাবিত করতে পারে।মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুমালে কী সমস্যা হয়?
টেস্টোস্টেরন কমে যায়, কর্টিসল বাড়ে এবং বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বেড়ে যায়।কম ঘুমে কি অন্য রোগও হতে পারে?
ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।ঘুম বাড়ানোর উপায় কী?
মেডিটেশন, ব্রিদিং এক্সারসাইজ, স্ক্রিন টাইম কমানো এবং নিয়মিত রুটিন অনুসরণ।

