রাশিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কি এবার সত্যিই বদলে যাচ্ছে? নতুন নিরাপত্তা নথি প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে এ প্রশ্নই এখন জোরালো হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে, ইউক্রেন সংকটে আর সামনে থাকতে চান না তিনি।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইউরোপ নিয়ে কঠোর সমালোচনায় আছেন ট্রাম্প। এবার জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের নথিতে তিনি স্পষ্ট জানান, ইউরোপ যদি নিজের ভুল না শুধরে নেয়, তবে ‘পশ্চিমা পরিচয়’ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।
জাতিসংঘেও তিনি ইউরোপের অভিবাসন নীতি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আগের চেয়ে আরও শক্ত ভাষায় সতর্ক করলেন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় ইউনিয়নবিষয়ক সাবেক রাষ্ট্রদূত গর্ডন সন্ডল্যান্ড জানান, ট্রাম্প মনে করেন ইউক্রেন সংকট মূলত ইউরোপের সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্র ‘সহযোগী ভূমিকা’ রাখতে পারে, তবে নেতৃত্ব নেওয়া উচিত ইউরোপেরই।
সন্ডল্যান্ড আরও বলেন, গত তিন দশক ধরে রাশিয়ার সঙ্গে যেভাবে আলোচনা বা চাপ প্রয়োগ হয়েছে, তা আর চালাতে চান না ট্রাম্প। আগের নিয়মে চললে সব ভার নিতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে—যা তিনি এড়াতে চাইছেন।
নতুন নথিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রসঙ্গেও বলা হয়েছে, ইউরোপের ‘আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি’ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তাই সম্পর্ক পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িত থাকতে হলেও নেতৃত্ব নিতে হবে ইউরোপকেই।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়েও হতাশা ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুত করা শান্তি প্রস্তাব জেলেনস্কি এখনও পড়েননি বলে জানান তিনি।
ইউক্রেন যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ থামাতে চাইলেও ইউরোপ চায় সব ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার। পুতিন এতে কঠোর আপত্তি জানিয়ে যাচ্ছেন। ফলে শান্তি চুক্তি দেরি হওয়ায় রাশিয়ার হামলাও বেড়েছে। লন্ডনে যোগ দিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত জেলেনস্কি।
1. ট্রাম্প কেন রাশিয়া ইস্যুতে পিছু হটছেন?
তিনি মনে করেন ইউক্রেন সংকটের নেতৃত্ব নেওয়া উচিত ইউরোপের, যুক্তরাষ্ট্র কেবল সহযোগী থাকবে।
2. নতুন নিরাপত্তা নথিতে কী সতর্কতা দেওয়া হয়েছে?
ইউরোপ ভুল ঠিক না করলে ‘পশ্চিমা পরিচয়’ সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
3. সন্ডল্যান্ড কী দাবি করেছেন?
ট্রাম্প ইউক্রেন ইস্যুকে ইউরোপের সমস্যা হিসেবে দেখছেন এবং নেতৃত্ব চাইছেন ইউরোপের কাছ থেকে।
4. জেলেনস্কিকে নিয়ে ট্রাম্প কেন হতাশ?
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব জেলেনস্কি এখনও পড়েননি।
5. শান্তি আলোচনা বিলম্ব হলে কী ঝুঁকি বাড়ছে?
রাশিয়ার হামলা আরও তীব্র হচ্ছে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

