আপনি হয়তো নিয়মিতই রাতভর ৭–৮ ঘন্টা ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু তার পরেও সকালে উঠে শরীর ভারী, মন খারাপ আর ক্লান্ত লাগছে — ভয়ঙ্কর হলেও, এই অনুভূতি আপনাকে একা নয়। কারণ শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের “গুণ” (sleep quality) সঠিক না হলে পুরো ৮ ঘণ্টাই কাজে আসে না।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে বছরের অভিজ্ঞ Christopher J. Allen–র মতে, ঘুমের সময় বেশি নয়, তা কতটা গভীর, অবিচ্ছিন্ন এবং পুনরুদ্ধারমূলক হচ্ছিলো, সেটি প্রকৃত বিশ্রামের মান নির্ধারণ করে।
কিছু কারণ আছে, যার জন্য আপনার ঘুম হতে পারে “অপূর্ণ”:
ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা — সব ধরনের আওয়াজহীন শ্বাসবিরতি বা অনিয়মিত শ্বাস (যেমন Sleep Apnea) ঘুমের গুণ নষ্ট করে।
রাতে ফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট — স্ক্রীনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন নিয়মে বাধা দেয়, ঘুম আসা বন্ধ করে।
অনিয়মিত ঘুমচক্র — প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো বা ওঠা হলে শরীরের “জৈবিক ঘড়ি” (circadian rhythm) অস্থির হয়।
ভালো ঘুম মানে এমন ঘুম যা গভীর, নিয়মিত এবং পুনরুদ্ধারমূলক — তখনই আপনি সকালে ভালো ঘুম থেকে নেমে সজাগ, ফুরফুরে অনুভব করবেন। আর তাই ঘুমের সময় নয়, “ঘুমের গুণ” ঠিক রাখতে সচেতন হওয়া জরুরি।
তাহলে কী করতে পারেন? কিছু সাধারণ কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ:
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমতে যাওয়া এবং একই সময়ে উঠুন — এতে আপনাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি স্থিতিশীল থাকে।
রাতের আগে ফোন বা ল্যাপটপ বন্ধ করুন — স্ক্রীনের নীল আলো ঘুমের গুণ নাড়ায়।
ঘুমের ঘর যেন শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক হয় — ব্যস্ত বাতাস বা আলো ঘুম ভাঙায়।
বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন (চা-কফি) এড়িয়ে চলুন — তা ঘুমকে ব্যাহত করতে পারে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন — তবে ঘুমের ঠিক আগে নয়, সময় একটু ধরেই।
