শনিবার রুশ হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ জনে দাড়িয়েছে,ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডিনিপ্রোতে একটি নয় তলা আবাসিক ভবনে। ইউক্রেনের আঞ্চলিক গভর্নরের কথা অনুযায়ী, এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সোমবার ডিনিপ্রোপেট্রোভস্কের গভর্নর ভ্যালেন্টিন রেজনিচেঙ্কো মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে বলেছেন, রাশিয়ার হামলায় ৪০ জন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চলছে।
ডিনিপ্রোর কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত ছয় শিশুসহ ভবন থেকে ৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আবাসিক এই অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকটি কেন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সে সম্পর্কে এখনও কোনও তথ্য নেই।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বলেছে, অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে হামলায় রুশবাহিনী একটি রাশিয়ান কেএইচ-২২ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। যা ‘ইনকারেট’ বলে পরিচিত, ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার জন্য ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছিল।
ডিনিপ্রো ছাড়াও শনিবার রাজধানী কিয়েভ, খারকিভ ও ওডেসাসহ আরও কয়েকটি শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে রাশিয়া।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ মিসাইল হামলার পর ইউক্রেনের বেশিরভাগ অংশই এখন জরুরি ব্ল্যাকআউটের মধ্যে রয়েছে। শনিবারের হামলায় বেশ কয়েকটি শহরে বিদ্যুতের অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলের ছোট লবণ-খনির শহর সোলেদারের রুশ ও ইউক্রেনের বাহিনীর যুদ্ধ অব্যহত রয়েছে।
রাশিয়ান বাহিনী শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করেছে, ইউক্রেন রবিবার জোর দিয়েছিল, তার বাহিনী শহরটিকে ধরে রাখতে লড়াই করছে, রাস্তায় লড়াই চলছে, রাশিয়ান বাহিনী বিভিন্ন দিক থেকে অগ্রসর হচ্ছে।
টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে ইউক্রেনের ডেপুটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হানা মালিয়ার বলেছেন, সাধারণভাবে বললে, যুদ্ধ চলছে।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক ইন্সটিটিউট ফর স্টাডি অফ ওয়ার বলেছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী এখনও সোলেদারের মধ্যে অবস্থানে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
সোমবার ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফে সোমবার সকালের প্রতিবেদনে বলছে, গত ২৪ ঘন্টায় ৫৫ টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
সূত্রঃ রয়টার্স। ছবিঃ সংগৃহীত