একটি ছোট ভুলেই বিপদ! হঠাৎ করেই আপনার জি-মেইল যদি অন্য কারও দখলে চলে যায়, তাহলে মুহূর্তেই ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে পুরো ডিজিটাল জীবন। বর্তমান সময়ে জি-মেইল শুধু ইমেইল নয়—ব্যাংকিং, সোশ্যাল মিডিয়া, অফিসের কাজ থেকে ব্যক্তিগত ডেটা, সবকিছুর মূল চাবিকাঠি এই একটি অ্যাকাউন্ট। তাই হ্যাকারদের নজরও সবচেয়ে বেশি এখানেই।
সাইবার অপরাধীরা নানান ফাঁদ পাতে জি-মেইল দখলের জন্য। তবে একটু সচেতন হলেই সহজে এদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো সম্ভব।
শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
জি-মেইল নিরাপত্তার প্রথম শর্ত শক্তিশালী পাসওয়ার্ড। বড় ও ছোট অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন মিলিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করুন। একই পাসওয়ার্ড অন্য কোনো অ্যাপে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখুন
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন থাকলে শুধু পাসওয়ার্ড জানলেই কেউ ঢুকতে পারবে না। ফোনে আসা কোড ছাড়া লগইন অসম্ভব হয়ে যায়, যা হ্যাকারদের বড় বাধা।
সন্দেহজনক ই-মেইল ও লিংক এড়িয়ে চলুন
‘অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হবে’ বা ‘ভেরিফাই করুন’—এমন মেইল দেখলে সতর্ক হন। এগুলো সাধারণত ফিশিং। গুগল কখনোই ই-মেইলে পাসওয়ার্ড চাইবে না।
রিকভারি তথ্য আপডেট রাখুন
রিকভারি ফোন নম্বর ও বিকল্প ই-মেইল যুক্ত থাকলে প্রয়োজনে সহজেই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া যায়।
লগইন অ্যাক্টিভিটি নজরে রাখুন
অচেনা ডিভাইস বা লোকেশন দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড বদলান এবং সন্দেহজনক ডিভাইস থেকে সাইন আউট করুন।
থার্ড-পার্টি অ্যাপের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করুন
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের অ্যাক্সেস বাতিল করুন। সব অ্যাপ নিরাপদ নয়।
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সাবধানতা
ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ে জি-মেইল লগইন ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনে ভিপিএন ব্যবহার করুন।
সিকিউরিটি চেকআপ করুন নিয়মিত
গুগলের সিকিউরিটি চেকআপ ফিচার ব্যবহার করে কয়েক মিনিটেই নিরাপত্তা যাচাই করা যায়।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: জি-মেইল হ্যাক হলে প্রথমে কী করবেন?
উত্তর: দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে সব ডিভাইস থেকে সাইন আউট করুন।
প্রশ্ন ২: টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: বাধ্যতামূলক নয়, তবে নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
প্রশ্ন ৩: ফিশিং ই-মেইল কীভাবে চিনবেন?
উত্তর: সন্দেহজনক লিংক, বানান ভুল ও ভয় দেখানো বার্তা থাকলে সতর্ক হবেন।
প্রশ্ন ৪: রিকভারি ই-মেইল কেন দরকার?
উত্তর: অ্যাকাউন্ট হারালে ফেরত পেতে এটি সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
প্রশ্ন ৫: পাবলিক ওয়াই-ফাই কি একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না?
উত্তর: ব্যবহার করা গেলেও সংবেদনশীল কাজে এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

